ঢাকা ১১:৫৪ , Mon, ০৭ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

ভ্রমণ অনুমতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫১
  • / 10
আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশে তিন বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে ছবি: জোসেফ প্রেজিওসো

ওয়াশিংটন, ৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গেলেও নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ক্ষেত্রে দেশে ফেরার সময় তিন বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে ছয় মাস বা তার বেশি সময় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন, তাদের জন্য সম্প্রতি অভিবাসন আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

১৩ আগস্টের ওই সিদ্ধান্তে আগের একটি নজির বাতিল করে বলা হয়েছে, আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়াকেও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর কেউ দেশ ছাড়লে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

এর আগে আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে সাময়িকভাবে বিদেশে যাওয়া সব ক্ষেত্রে এমন দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হতো না, যার কারণে অবৈধ অবস্থানের ভিত্তিতে তিন বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই আইনি ব্যাখ্যায় পরিবর্তন এসেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের জন্য চালু করা ডাকা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তি এবং সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদাধারীদের ওপর। তাঁদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার জন্য আগাম ভ্রমণ অনুমতি ব্যবহার করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যেও নতুন সিদ্ধান্তটি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে গেলে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি বাধার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, আবার ভ্রমণ না করলে অসুস্থ স্বজন বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের কাছে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাসের বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থান করার পর দেশ ছাড়লে তাঁর ওপর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। আর এক বছর বা তার বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে আগাম ভ্রমণ অনুমতিপত্র থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা নিশ্চিত হয় না। বিদেশ থেকে ফেরার পর সীমান্তে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নেন।আইনজীবীদের উদ্বেগ

অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা অনেক অভিবাসী কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাদের বিদেশ ভ্রমণের পারিবারিক বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও জটিল হতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, বিদ্যমান অভিবাসন আইনে নির্ধারিত সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে দেশ ছাড়লেও সেই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।

অভিবাসন আপিল বোর্ডের ১৩ আগস্টের সিদ্ধান্তে আগের একটি নজির বাতিল করে আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগকেও সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে দেশত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে ভ্রমণের আগে নিজের অভিবাসন অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ববর্তী অবস্থানের মেয়াদ এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

ভ্রমণ অনুমতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

প্রকাশঃ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫১

ওয়াশিংটন, ৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গেলেও নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ক্ষেত্রে দেশে ফেরার সময় তিন বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে ছয় মাস বা তার বেশি সময় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন, তাদের জন্য সম্প্রতি অভিবাসন আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

১৩ আগস্টের ওই সিদ্ধান্তে আগের একটি নজির বাতিল করে বলা হয়েছে, আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়াকেও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর কেউ দেশ ছাড়লে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

এর আগে আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে সাময়িকভাবে বিদেশে যাওয়া সব ক্ষেত্রে এমন দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হতো না, যার কারণে অবৈধ অবস্থানের ভিত্তিতে তিন বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই আইনি ব্যাখ্যায় পরিবর্তন এসেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের জন্য চালু করা ডাকা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তি এবং সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদাধারীদের ওপর। তাঁদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার জন্য আগাম ভ্রমণ অনুমতি ব্যবহার করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যেও নতুন সিদ্ধান্তটি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে গেলে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি বাধার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, আবার ভ্রমণ না করলে অসুস্থ স্বজন বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের কাছে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাসের বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থান করার পর দেশ ছাড়লে তাঁর ওপর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। আর এক বছর বা তার বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে আগাম ভ্রমণ অনুমতিপত্র থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা নিশ্চিত হয় না। বিদেশ থেকে ফেরার পর সীমান্তে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নেন।আইনজীবীদের উদ্বেগ

অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা অনেক অভিবাসী কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাদের বিদেশ ভ্রমণের পারিবারিক বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও জটিল হতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, বিদ্যমান অভিবাসন আইনে নির্ধারিত সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে দেশ ছাড়লেও সেই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।

অভিবাসন আপিল বোর্ডের ১৩ আগস্টের সিদ্ধান্তে আগের একটি নজির বাতিল করে আগাম ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগকেও সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে দেশত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে ভ্রমণের আগে নিজের অভিবাসন অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ববর্তী অবস্থানের মেয়াদ এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।