আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধা ও সাফল্যের জয়জয়কার: ব্রিটিশ বাংলাদেশি ও সিলেটিদের অবিস্মরণীয় পথচলা!
- প্রকাশঃ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৪
- / 4
যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাঙালিদের, বিশেষ করে বীর বিক্রমে এগিয়ে যাওয়া সিলেটের সন্তানদের অবস্থান আজ নতুন এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। অতীতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসীদের পথচলা কেবল রেস্তোরাঁ ব্যবসা বা শ্রমভিত্তিক কাজে সীমাবদ্ধ ছিল বলে যারা মনে করতেন, আজকের বাস্তবতায় তা সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে শিক্ষার জয়জয়কারে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, সর্বোচ্চ বিজ্ঞান-চিকিৎসা গবেষণা থেকে শুরু করে অর্থনীতি—সবকটি শীর্ষস্থানীয় খাতে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উচ্চশিক্ষিত ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা।
রাজনীতি ও আইন প্রণয়নে বাংলাদেশি মেধার রাজত্ব
রুশনারা আলী: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত সম্মানজনক ডিগ্রি অর্জনকারী রুশনারা আলী ২০১০ সালে প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হাউজ অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রেখে আসছেন।
টুলিপ সিদ্দিক: কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ টুলিপ সিদ্দিক উত্তর লন্ডনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত এমপি এবং ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারণী উচ্চপদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রূপা হক: বিশ্বখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজ্যুয়েশন সম্পন্ন করা এবং সমাজবিজ্ঞানের সাবেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ড. রূপা হক একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালী পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পুরো যুক্তরাজ্যে অত্যন্ত সম্মানিত।
আফছানা বেগম: লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে আফছানা বেগম পপলার ও লাইমহাউস আসন থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবাসীদের অধিকার ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ অবস্থান
জাজ আখলাক চৌধুরী (হিজ অনার জাজ আখলাক চৌধুরী): স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যারিস্টার আখলাক চৌধুরী ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিযুক্ত হন। তিনি প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যিনি ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থার এমন এক রাজকীয় ও শীর্ষ সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
সারাহ সুলতানা: আধুনিক প্রযুক্তি ও মূলধারার ব্রিটিশ ব্যাংকিং খাতে জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বিশ্বসেরা শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবায় সিলেটিদের অবদান
অধ্যাপক ড. টিপু আজিজ: বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারির প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. টিপু আজিজ চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। সিলেটের এই সন্তান বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার এক অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
ড. পারভেজ হাবিব: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় অভাবনীয় অবদানের জন্য ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশি গবেষকদের মধ্যে তিনি এক উজ্জ্বল নাম।
ড. সামিয়া আলিম: যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রবাসে জনস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।
জিসিএসই ও এ-লেভেলে সিলেটি শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের জিসিএসই (GCSE) ও এ-লেভেল পরীক্ষায় সিলেটি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য অর্জন করছে। টাওয়ার হ্যামলেটস, ক্যামডেনসহ উত্তর যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সারির রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়গুলোতে তারা গণিত, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় সর্বোচ্চ গ্রেড (৯ ও ৮) অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।
বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসাস কলেজ সম্প্রতি সিলেটি পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরা নিজেদের মেধার প্রমাণ দিয়ে সুযোগ করে নিচ্ছে। অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (UCL) মতো প্রতিষ্ঠানে এখন শত শত সিলেটি তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাদানেও যুক্ত হচ্ছেন।
বাংলাদেশের কোটিপতি ও সম্পদশালীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ
বাংলাদেশে এমন অনেক মিলিয়নেয়ার ও বিলিয়নিয়ার পরিবার রয়েছেন, যাদের পর্যাপ্ত সামর্থ্য ও অর্থ থাকা সত্ত্বেও কেবল সঠিক সুযোগ বা দিকনির্দেশনার অভাবে সন্তানকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশে পাঠাতে পারছেন না।
সম্পদের সঠিক ব্যবহার: কেবল দেশে সম্পত্তি বা টাকা জমিয়ে না রেখে সন্তানকে যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের শিক্ষা ও মুক্ত সমাজের সুযোগ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
যোগ্যতা ও বিশ্বমানের নাগরিক: অর্থকে বিনিয়োগ করে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি অর্জন করানো পরিবারের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও প্রবাসীদের মান-সম্মান
যুক্তরাজ্যে বসবাসের অন্যতম বড় দিক হলো সামাজিক সুরক্ষা ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তি: প্রবাসের এই মুক্ত সমাজে নিজের ধর্মকর্ম (নামাজ, রোজা) ও যাপন নিয়ে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না
তোষামোদহীন আত্মসম্মান: কাউকে তেল মেরে বা অযথা সম্মান দেখিয়ে চলার প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা থাকলে একা থাকলেও মাথা উঁচু করে মর্যাদার সাথে বাঁচা যায়।
অকারণ হিংসা বনাম বাস্তবতা: কিছু মানুষ না বুঝে প্রবাসীদের সাফল্য বা সিলেটি ঐতিহ্য নিয়ে কটাক্ষ বা হিংসা করে, কারণ তারা বিশ্বমঞ্চের এই মানসম্মত পরিবেশ বা স্বাধীনতার সুযোগগুলো কখনো পায়নি। প্রবাসীদের অর্জন সেই সব নিন্দুকদের যোগ্য জবাব।
সিলেটি ভাষায় মূল বার্তার বিশেষ অংশ (সিলেটি বন্ধুদের উদ্দেশ্যে)
”সিলেটি অকলের লাগি সুযোগ ও শিক্ষার নতুন বার্তা”: আজকাল দেখা যার, কুনু কুনু মানুষে হঠাৎ দুই-এক কলম ফড়িয়া সিলেটি মাৎ আর সিলেটি মানষের ঐতিহ্য লইয়া কথা কয়। তারা বুঝে না—সিলেটি মানষের যে মান-সম্মান আর বিদেশের মাটিতে যে সুযোগ-সুবিধা আছে, অউগুইন পাইতে হইলে মেধা আর কপাল লাগে। এরা হিংসার খাতিরে নানান কথা কয়, কারণ প্রবাসর অউ ইজ্জত আর স্বাধীন পরিবেশ তারা জীবনেও পাইছে না।
আজকে বিলেতে আমরা সিলেটের পুয়া-ফুরিন হকল শিক্ষার শীর্ষে চরম সাফল্য দেখাইরা। জিসিএসই (GCSE) আর এ-লেভেল পরীক্ষাৎ তারা রেকর্ড রেজাল্ট করের। অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, আর ইম্পেরিয়ালর মতো বিশ্বসেরা জাগাত আমরা সিলেটি পরিবারের হকলু মেধার স্বাক্ষর রাখা শুরু খরছইন।
আমি আমরা সিলেটি ও সমস্ত বাংলাদেশী ধনকুবের ভাইদের খইমু—আপনারাইন সুযোগ পাইছইন, সুযোগটা কাজে লাগাউক্কা। বাংলাদেশে খালি টিখা-পয়সা জমাইয়া না রাইখা, নিজর পুয়া-ফুরিনরে অক্সফোর্ড আর বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়াত ফড়াইবার চিন্তা করুক্কা। প্রবাসাত আইলে কেউ আপনারে ডিস্টার্ব দিতো নায়, নামাজ-রোজা বা নিজর জীবন শান্তিতে কাটাইতে ফারবা। খারাফর তেল মারা লাগতো নায়, নিজর যোগ্যতায় মাথা উঁচা করি চলবা।
শিক্ষা আর সাফল্যের যে পথ সিলেটিরা দেখাইরা, অউ পথে আগাইয়া নেওয়াই অইল আসল বুদ্ধিমানির কাম। বিলেতের দরজা মেধার লাগি খুলা—অউ সুন্দর সুযোগটা হকলু কাজে লাগাউক্কা!”




























