ব্রিটেনে আইএলআর অনুমোদন বেড়েছে ৩৮ শতাংশ, ১০ বছরের সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা
- প্রকাশঃ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১৭
- / 6
লন্ডন, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার আবেদন অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে ৭৩ হাজার ৭৭৫টি আইএলআর আবেদন অনুমোদন করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সরকারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাসে অনুমোদিত আবেদনের সংখ্যা প্রতিটি কর্মদিবসে ১ হাজার ১০০টির বেশি সফল আবেদনের সমান। গত ১২ মাসের হিসাবেও আইএলআর অনুমোদনের সংখ্যা বেড়েছে। জুন পর্যন্ত এক বছরে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৮টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।
আইএলআর অনুমোদনের সংখ্যা বাড়লেও অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব এখনো কার্যকর হয়নি। গত বছরের নভেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষণা করেছিলেন, অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে বর্তমান পাঁচ বছরের যোগ্যতার সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হতে পারে।
তবে প্রায় এক বছর পরও গত সপ্তাহে প্রকাশিত সর্বশেষ অভিবাসন বিধিমালার হালনাগাদে ওই সংস্কারের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এর পর বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সরকার কঠোর অভিবাসন সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে।
শ্যাডো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ শাবানা মাহমুদের সমালোচনা করে ডেইলি মেইলকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইএলআর ব্যবস্থায় কঠোর পরিবর্তনের কথা বললেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, লেবার পার্টির বামপন্থী ব্যাকবেঞ্চারদের চাপের কারণে সরকার কঠোর অভিবাসন সংস্কার কার্যকর করতে দ্বিধায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর হলে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বেড়ে ১০ বছর হতে পারে। এর অর্থ, বর্তমান নিয়মের তুলনায় আইএলআরের জন্য অপেক্ষার সময় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবটি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাদের স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার আগে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। অপরাধে জড়িত ব্যক্তি, সরকারি সুবিধা গ্রহণকারী এবং তুলনামূলকভাবে কম কর প্রদানকারীদের ক্ষেত্রেও স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করার প্রস্তাব ছিল।
সরকারের পরিকল্পনায় প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীরাও থাকতে পারেন। তবে প্রস্তাবটি লেবার পার্টির ভেতরেই বিরোধিতার মুখে পড়ে।
ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ জন লেবার এমপি একটি খোলা চিঠিতে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরে নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায্য হবে। জুনে এ বিরোধিতা আরও প্রকাশ্য হয়। অ্যাঞ্জেলা রেনার, যিনি পরবর্তী সময়ে হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটিজ সেক্রেটারি হন, প্রস্তাবগুলোকে ‘আন-ব্রিটিশ’ ও ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেন।
জুনে প্রকাশিত লেবার সরকারের অভিবাসন বিলেও আইএলআর সংস্কারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এসব পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আনা হতে পারে। তবে সর্বশেষ অভিবাসন বিধিমালার হালনাগাদেও সংস্কারের ঘোষণা না আসায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে হোম অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার থেকে ৬ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। এর পেছনে মহামারির পর যুক্তরাজ্যে আসা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর যোগ্যতার সময়সীমায় পৌঁছানোর বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোম অফিসের পরামর্শপত্রে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় পড়তে পারেন এমন প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীর অধিকাংশ ২০২২ সালের পর যুক্তরাজ্যে এসেছেন। বর্তমান পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল থাকলে তাদের অনেকে ২০২৭ সাল থেকে আইএলআরের জন্য যোগ্য হতে শুরু করবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনও বেড়েছে। ২০২৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের সংখ্যা ১৪ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। একই বছর নিট অভিবাসন রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে দাঁড়ায়।
তবে সরকার প্রস্তাবিত আইএলআর সংস্কার বাতিল করেছে এমন কোনো ঘোষণা এখনো দেয়নি। হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআরের স্বাভাবিক যোগ্যতার সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষার সময় কম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মুখপাত্র জানান, সংস্কারের কয়েকটি বিষয় নিয়ে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার যথাসময়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ফলে বর্তমানে আইএলআর সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের প্রস্তাবিত পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না। অন্যদিকে আইএলআর অনুমোদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হচ্ছে।


























