দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস
- প্রকাশঃ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪০
- / 1
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং অভিবাসন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির একটি বড় অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।
এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে স্থানীয় মানুষকে জানানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান মীর শাহে আলম। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।
তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।




























