ঢাকা ০৩:৩৪ , Sat, ০৫ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্বের শিকার স্কিলড ওয়ার্কাররা বদলাতে পারবে চাকরি, ভিসা থাকবে বহাল

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৫
  • / 7
লন্ডনে দাসপ্রথা-বিরোধী একটি পদযাত্রা। লেবার পার্টির এমপি মেগ হিলিয়ার সতর্ক করেছেন যে, দাসপ্রথা-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় খণ্ডকালীন বা বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না ছবি: স্টিফেন চুং/এলএনপি

লন্ডন, ৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আধুনিক দাসত্ব ও কর্মক্ষেত্রে গুরুতর শোষণের শিকার স্কিলড ওয়ার্কারদের জন্য অভিবাসন আইনে নতুন সুরক্ষা যুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন ইমিগ্রেশন রুলস অনুযায়ী, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো এবং হোম অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আধুনিক দাসত্বের বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া স্কিলড ওয়ার্কাররা তাঁদের বর্তমান ভিসার মেয়াদে মূল স্পনসর নিয়োগকর্তার বাইরে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। নতুন নিয়মটি ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

হোম অফিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা সাধারণত নির্দিষ্ট স্পনসর ও নির্দিষ্ট চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে ভিসাধারী ব্যক্তি সাধারণ নিয়মে মূল স্পনসর করা চাকরি ছেড়ে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে চাইলে তাঁকে ভিসার শর্ত পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন বিধানে আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বর্তমান অনুমতির বাকি সময়ের জন্য যেকোনো ধরনের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে, পেশাদার ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া কোচ হিসেবে কাজ ছাড়া।

কারা এই সুবিধা পাবেন

এই সুবিধা যুক্তরাজ্যের সব স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো হতে হবে এবং তাঁর সর্বশেষ অভিবাসন-অনুমতির মেয়াদের সময়ে আধুনিক দাসত্বের বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে সাধারণ বিরোধ, বেতন নিয়ে সমস্যা বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে মতবিরোধ হলেই এই বিশেষ সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না।

ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত ও সহায়তার সরকারি কাঠামো। এতে প্রথমে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে এবং পরে চূড়ান্ত ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতিবাচক যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল ৪ হাজার ৮৬৭টি মামলা। সরকার ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই অপেক্ষমাণ মামলার জট কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চাকরি পরিবর্তনে কী সুবিধা হবে

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর স্বীকৃত ভুক্তভোগী স্কিলড ওয়ার্কারকে শোষণকারী নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বনিযুক্ত কাজ, স্বেচ্ছাসেবী কাজসহ যেকোনো কাজের অনুমতিও এই বিশেষ বিধানের আওতায় থাকবে। তবে পেশাদার ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া কোচ হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।

এর অর্থ হলো, একজন কর্মী আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগী হলে শোষণকারী নিয়োগকর্তার চাকরি ছাড়ার কারণে তাঁর বর্তমান অভিবাসন-অনুমতির কাজের শর্ত আর আগের মতো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে আটকে থাকবে না। তবে এই পরিবর্তন নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার তৈরি করে না। বর্তমান অভিবাসন-অনুমতির মেয়াদ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত বহাল থাকবে।

স্কিলড ওয়ার্কার ব্যবস্থায় কর্মীর অভিবাসন-স্থিতি ও চাকরির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় শোষণের শিকার কর্মীরা অনেক সময় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পেতে পারেন। কারণ চাকরি হারানোর সঙ্গে অভিবাসন-স্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হতে পারে। নতুন বিধানের পেছনে হোম অফিসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই নির্ভরতা কমানো এবং আধুনিক দাসত্বের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত সামনে আসতে উৎসাহ দেওয়া। হোম অফিস বলেছে, স্পনসরশিপ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দুর্বল কর্মীদের শোষণকারীদের সুযোগ কমাতেও এই পরিবর্তন সহায়তা করবে।

যুক্তরাজ্যের আধুনিক দাসত্বের সরকারি পরিসংখ্যানও সমস্যাটির ব্যাপকতা তুলে ধরে। ২০২৫ সালে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে ২৩ হাজার ৪১১ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে রেফার করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৯ হাজার ১১৭ জনের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি এবং ২০০৯ সালে এই ব্যবস্থা চালুর পর সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। তাঁদের মধ্যে শ্রমিক শোষণ ছিল সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা শোষণের ধরন, যা মোট রেফারেলের ৩৬ শতাংশ বা ৮ হাজার ৪০৬টি ক্ষেত্রে ছিল।

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেও ৬ হাজার ৩ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। হোম অফিস জানিয়েছে, একই সময়ে ৪ হাজার ৪৫১টি মামলা একক সক্ষম কর্তৃপক্ষ এবং ১ হাজার ৫৫২টি মামলা অভিবাসন প্রয়োগসংক্রান্ত সক্ষম কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিদেশি কর্মীরা অভিবাসন-স্থিতির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের বড় অংশ রয়েছে এমন খাতে শ্রম অধিকার ও শোষণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। আধুনিক দাসত্বের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে, কারণ নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে চাকরি বা অভিবাসন-স্থিতি হারানোর ভয় দেখানো কর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।

হোম অফিসের নতুন বিধান এই জায়গাতেই একটি সুরক্ষা তৈরি করছে। আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগী একজন স্কিলড ওয়ার্কারকে তাঁর অভিবাসন-স্থিতির কারণে শোষণকারী নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে না। তিনি বর্তমান অনুমতির মেয়াদের মধ্যে অন্য কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মটি ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলেও সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারি নথি অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার সংক্রান্ত এই পরিবর্তন ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। একই তারিখে নতুন ইমিগ্রেশন রুলসের আরও কয়েকটি পরিবর্তনও কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা স্কিলড ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আধুনিক দাসত্বের ভুক্তভোগী হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় স্বীকৃতি থাকতে হবে। সাধারণ চাকরি পরিবর্তন বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য হবে না।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্বের শিকার স্কিলড ওয়ার্কাররা বদলাতে পারবে চাকরি, ভিসা থাকবে বহাল

প্রকাশঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৫

লন্ডন, ৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আধুনিক দাসত্ব ও কর্মক্ষেত্রে গুরুতর শোষণের শিকার স্কিলড ওয়ার্কারদের জন্য অভিবাসন আইনে নতুন সুরক্ষা যুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন ইমিগ্রেশন রুলস অনুযায়ী, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো এবং হোম অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আধুনিক দাসত্বের বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া স্কিলড ওয়ার্কাররা তাঁদের বর্তমান ভিসার মেয়াদে মূল স্পনসর নিয়োগকর্তার বাইরে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। নতুন নিয়মটি ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

হোম অফিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা সাধারণত নির্দিষ্ট স্পনসর ও নির্দিষ্ট চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে ভিসাধারী ব্যক্তি সাধারণ নিয়মে মূল স্পনসর করা চাকরি ছেড়ে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে চাইলে তাঁকে ভিসার শর্ত পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন বিধানে আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বর্তমান অনুমতির বাকি সময়ের জন্য যেকোনো ধরনের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে, পেশাদার ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া কোচ হিসেবে কাজ ছাড়া।

কারা এই সুবিধা পাবেন

এই সুবিধা যুক্তরাজ্যের সব স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো হতে হবে এবং তাঁর সর্বশেষ অভিবাসন-অনুমতির মেয়াদের সময়ে আধুনিক দাসত্বের বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে সাধারণ বিরোধ, বেতন নিয়ে সমস্যা বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে মতবিরোধ হলেই এই বিশেষ সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না।

ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত ও সহায়তার সরকারি কাঠামো। এতে প্রথমে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে এবং পরে চূড়ান্ত ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতিবাচক যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল ৪ হাজার ৮৬৭টি মামলা। সরকার ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই অপেক্ষমাণ মামলার জট কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চাকরি পরিবর্তনে কী সুবিধা হবে

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর স্বীকৃত ভুক্তভোগী স্কিলড ওয়ার্কারকে শোষণকারী নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বনিযুক্ত কাজ, স্বেচ্ছাসেবী কাজসহ যেকোনো কাজের অনুমতিও এই বিশেষ বিধানের আওতায় থাকবে। তবে পেশাদার ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া কোচ হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।

এর অর্থ হলো, একজন কর্মী আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগী হলে শোষণকারী নিয়োগকর্তার চাকরি ছাড়ার কারণে তাঁর বর্তমান অভিবাসন-অনুমতির কাজের শর্ত আর আগের মতো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে আটকে থাকবে না। তবে এই পরিবর্তন নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার তৈরি করে না। বর্তমান অভিবাসন-অনুমতির মেয়াদ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত বহাল থাকবে।

স্কিলড ওয়ার্কার ব্যবস্থায় কর্মীর অভিবাসন-স্থিতি ও চাকরির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় শোষণের শিকার কর্মীরা অনেক সময় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পেতে পারেন। কারণ চাকরি হারানোর সঙ্গে অভিবাসন-স্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হতে পারে। নতুন বিধানের পেছনে হোম অফিসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই নির্ভরতা কমানো এবং আধুনিক দাসত্বের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত সামনে আসতে উৎসাহ দেওয়া। হোম অফিস বলেছে, স্পনসরশিপ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দুর্বল কর্মীদের শোষণকারীদের সুযোগ কমাতেও এই পরিবর্তন সহায়তা করবে।

যুক্তরাজ্যের আধুনিক দাসত্বের সরকারি পরিসংখ্যানও সমস্যাটির ব্যাপকতা তুলে ধরে। ২০২৫ সালে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে ২৩ হাজার ৪১১ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে রেফার করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৯ হাজার ১১৭ জনের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি এবং ২০০৯ সালে এই ব্যবস্থা চালুর পর সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। তাঁদের মধ্যে শ্রমিক শোষণ ছিল সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা শোষণের ধরন, যা মোট রেফারেলের ৩৬ শতাংশ বা ৮ হাজার ৪০৬টি ক্ষেত্রে ছিল।

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেও ৬ হাজার ৩ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। হোম অফিস জানিয়েছে, একই সময়ে ৪ হাজার ৪৫১টি মামলা একক সক্ষম কর্তৃপক্ষ এবং ১ হাজার ৫৫২টি মামলা অভিবাসন প্রয়োগসংক্রান্ত সক্ষম কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিদেশি কর্মীরা অভিবাসন-স্থিতির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের বড় অংশ রয়েছে এমন খাতে শ্রম অধিকার ও শোষণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। আধুনিক দাসত্বের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে, কারণ নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে চাকরি বা অভিবাসন-স্থিতি হারানোর ভয় দেখানো কর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।

হোম অফিসের নতুন বিধান এই জায়গাতেই একটি সুরক্ষা তৈরি করছে। আধুনিক দাসত্বের স্বীকৃত ভুক্তভোগী একজন স্কিলড ওয়ার্কারকে তাঁর অভিবাসন-স্থিতির কারণে শোষণকারী নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে না। তিনি বর্তমান অনুমতির মেয়াদের মধ্যে অন্য কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মটি ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলেও সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারি নথি অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার সংক্রান্ত এই পরিবর্তন ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। একই তারিখে নতুন ইমিগ্রেশন রুলসের আরও কয়েকটি পরিবর্তনও কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা স্কিলড ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আধুনিক দাসত্বের ভুক্তভোগী হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় স্বীকৃতি থাকতে হবে। সাধারণ চাকরি পরিবর্তন বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য হবে না।