বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে আমেরিকা যেতে চান? জেনে নিন ১০ বৈধ পথ
- প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫২
- / 17
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে বসবাস করা। পরিবারের বড় ছেলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন, বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছেলেমেয়েদের কাছাকাছি থাকা, আর ছোট বোনের লক্ষ্য সেখানে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। কিন্তু পরিবারের সবাই কি একই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন? নাকি একজনের সুযোগের সঙ্গে অন্যদের জন্যও আলাদা কোনো বৈধ পথ রয়েছে?
বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করা অনেকের ক্ষেত্রেই এমন প্রশ্ন সামনে আসে। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে বসবাস, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিতে চান। তবে সব পরিবারের জন্য একই অভিবাসন ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা, পেশাগত যোগ্যতা, চাকরি, ব্যবসা, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্য পথ নির্ধারিত হয়।
১. পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাস
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মা ও ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সব পারিবারিক শ্রেণির জন্য একই ধরনের অপেক্ষার সময় নেই। কিছু শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যাগত সীমা থাকায় অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
২. চাকরির মাধ্যমে স্থায়ী বসবাস
নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী বিদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার ভূমিকার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানও নির্ভরশীল হিসেবে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
৩. বিশেষ দক্ষতা বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে
উচ্চশিক্ষিত বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কিছু পেশাজীবী কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের এমন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। যোগ্যতা পূরণ করলে কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াও আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।
৪. বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাস
বড় অঙ্কের যোগ্য বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত পূরণ করতে পারলে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের ধরন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থের বৈধ উৎসসহ একাধিক বিষয় এখানে বিবেচনা করা হয়। যোগ্য মূল আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
৫. বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে বিনিয়োগকারীর অস্থায়ী ভিসার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব ও কার্যকর ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি সরাসরি স্থায়ী বসবাসের পথ নয়। যোগ্য বিনিয়োগকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানও নির্ভরশীল হিসেবে সঙ্গে যেতে পারেন।
৬. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে যাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যোগ্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির সুযোগ পেলে নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক অস্থায়ী ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। কোন ভিসা প্রযোজ্য হবে তা চাকরির ধরন, কর্মীর যোগ্যতা এবং নিয়োগকর্তার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। কিছু কর্মভিত্তিক ভিসায় মূল আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তান নির্ভরশীল হিসেবে যেতে পারেন।
৭. একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের শাখায় বদলি
বাংলাদেশে কোনো আন্তর্জাতিক বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মকর্তা বা বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের শাখায় বদলি করা হলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বদলি ভিসার সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মীর পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তান নির্ভরশীল হিসেবে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
৮. উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নেওয়া
৯. আত্মীয়ের মাধ্যমে পারিবারিক অভিবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তানসহ কিছু নির্দিষ্ট আত্মীয়ের জন্য অভিবাসন আবেদন করতে পারেন। তবে সম্পর্কভেদে আবেদনকারীর যোগ্যতা, কোটার নিয়ম ও অপেক্ষার সময় আলাদা হতে পারে।
১০. পরিবারের সদস্যকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ
কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্দিষ্ট অভিবাসন বা ভিসা মর্যাদা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী ও যোগ্য সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি সব ভিসা বা অভিবাসন মর্যাদার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয় এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা আবেদন ও যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় গেলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান নির্ভরশীল হিসেবে যেতে পারেন। তবে নির্ভরশীলদের পড়াশোনা বা কাজের অধিকার মূল শিক্ষার্থী ভিসার ধরনের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষার্থীভিত্তিক এই ব্যবস্থা সাধারণত অস্থায়ী এবং এটি নিজে থেকে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেয় না।
পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে তাই প্রথমে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। স্থায়ী বসবাস করতে চাইলে পারিবারিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ব্যবসা, চাকরি বা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য থাকলে অস্থায়ী ভিসার বিভিন্ন শ্রেণি বিবেচনা করতে হয়। একই সঙ্গে একজনের ভিসা বা অভিবাসন অনুমোদন পেলেই পরিবারের সব সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাওয়ার অধিকার পান না। প্রত্যেক নির্ভরশীলের বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা বা অভিবাসন শ্রেণির শর্ত পূরণ করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও ভিসার নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো এজেন্টের কথার ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা বা অভিবাসন শ্রেণির সর্বশেষ সরকারি শর্ত, যোগ্যতা, ফি এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।























