নিউইয়র্কের সবচেয়ে একাকী এলাকা ব্রঙ্কস, একাকিত্বে ভুগছেন ৪১ শতাংশ বাসিন্দা
- প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৮
- / 21
নিউইয়র্ক, ১০ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – জনাকীর্ণ শহর নিউইয়র্কের সবচেয়ে একাকী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে ব্রঙ্কস। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রঙ্কসের প্রায় ৪১ শতাংশ বাসিন্দা একাকিত্ব অনুভব করেন। বিপুল জনসংখ্যা ও ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এই হার অঞ্চলটিকে নিউইয়র্কের সবচেয়ে একাকী কাউন্টি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আগস্টে প্রকাশিত গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে। এতে ৩৯টি অঙ্গরাজ্যের ১৮ কোটি ৪২ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত ঘন ঘন একাকিত্ব অনুভব করেন এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক অবস্থার বিভিন্ন দিকও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ব্রঙ্কসের পর নিউইয়র্কের মধ্যে একাকিত্বের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুইন্স। সেখানে ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ বাসিন্দা একাকিত্বের কথা জানিয়েছেন। ম্যানহাটনে এই হার ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ।
অঙ্গরাজ্য হিসেবে নিউইয়র্কও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে বেশি একাকিত্বপ্রবণ এলাকার তালিকায় রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা আরও বেশি বন্ধুত্ব ও সামাজিক যোগাযোগ চান। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্কের অবস্থান ১১তম।
গবেষণার সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, একাকিত্বের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। নিয়মিত ফোনে কথা বলা, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা কোনো সামাজিক সংগঠন বা ক্লাবে যুক্ত থাকার মতো ছোট ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সংযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একাকিত্বের সমস্যা কেবল নিউইয়র্ক বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দীর্ঘ সময় সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্মৃতি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
মানুষের সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করা, বই পড়ার ক্লাবে যোগ দেওয়া, একসঙ্গে কফি খাওয়া কিংবা নিয়মিত কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মতো উদ্যোগ একাকিত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে।



























