ঢাকা ০৮:৫৫ , Fri, ১১ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
ইউরোপ

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে, ইতালিতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৮
  • / 15
ইউরোপে আশ্রয় আবেদনের সামগ্রিক সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ছবি: সংগৃহীত

ব্রাসেলস, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডসহ ইইউ+ অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। তবে সামগ্রিক এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলার পর বাংলাদেশ তৃতীয় সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১৭ হাজার আবেদন ছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন এবং পুনরায় করা আবেদনের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে শরণার্থী মর্যাদা বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ।

ইইউএএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার পেছনে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিরীয় নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশের মধ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতাও আবেদনের নিম্নমুখী প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে ইইউর নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যকর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগান নাগরিকরা, প্রায় ৩৯ হাজার। এরপর ভেনেজুয়েলা ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ইতালি ছিল প্রধান গন্তব্য, এরপর গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ বলছে, বাংলাদেশিদের আবেদনের প্রবণতা ইতালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া নাগরিকত্বের দল ছিল।

বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের নতুন আশ্রয়নীতির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। ১২ জুন থেকে বাংলাদেশকে ইইউর প্রথম অভিন্ন ‘নিরাপদ উৎসদেশের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়াও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষার নির্দিষ্ট ঝুঁকি দেখাতে পারলে সেই আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকে।

ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আসা আবেদনের বড় একটি অংশ এমন নাগরিকদের, যাদের নিজ নিজ দেশের আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২০ শতাংশ বা তার কম। এই শ্রেণির আবেদন নতুন নিয়মের আওতায় দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে। মে মাসের তথ্যেও বাংলাদেশিদের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩ শতাংশ ছিল, যা ইউরোপের প্রধান আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্ন হার।

আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার সঙ্গে প্রথম ধাপে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। জুন ২০২৬ শেষে ইইউ+ অঞ্চলে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার ছিল। তবে বিভিন্ন ধাপ মিলিয়ে আশ্রয় ব্যবস্থায় মোট অপেক্ষমাণ মামলার চাপ এখনো বড়।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ইইউএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। ফলে নতুন আবেদন কিছুটা বাড়লেও আগের মামলার জটও ইউরোপীয় আশ্রয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

ইইউএএ বলছে, বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও খুব কমসংখ্যক আবেদনকারী প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন নিয়মে দ্রুত যাচাই ও সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়ার সুযোগ বাড়ায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আশ্রয়প্রক্রিয়ার ধরনও বদলাতে পারে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদনের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন ও মিশ্র অভিবাসন প্রবাহেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

সূত্র: ইইউএএ, এএফপি।

❤️
👏
🙂
😞

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে, ইতালিতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৮

ব্রাসেলস, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডসহ ইইউ+ অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। তবে সামগ্রিক এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলার পর বাংলাদেশ তৃতীয় সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১৭ হাজার আবেদন ছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন এবং পুনরায় করা আবেদনের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে শরণার্থী মর্যাদা বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ।

ইইউএএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার পেছনে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিরীয় নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশের মধ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতাও আবেদনের নিম্নমুখী প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে ইইউর নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যকর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগান নাগরিকরা, প্রায় ৩৯ হাজার। এরপর ভেনেজুয়েলা ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ইতালি ছিল প্রধান গন্তব্য, এরপর গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ বলছে, বাংলাদেশিদের আবেদনের প্রবণতা ইতালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া নাগরিকত্বের দল ছিল।

বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের নতুন আশ্রয়নীতির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। ১২ জুন থেকে বাংলাদেশকে ইইউর প্রথম অভিন্ন ‘নিরাপদ উৎসদেশের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়াও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষার নির্দিষ্ট ঝুঁকি দেখাতে পারলে সেই আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকে।

ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আসা আবেদনের বড় একটি অংশ এমন নাগরিকদের, যাদের নিজ নিজ দেশের আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২০ শতাংশ বা তার কম। এই শ্রেণির আবেদন নতুন নিয়মের আওতায় দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে। মে মাসের তথ্যেও বাংলাদেশিদের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩ শতাংশ ছিল, যা ইউরোপের প্রধান আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্ন হার।

আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার সঙ্গে প্রথম ধাপে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। জুন ২০২৬ শেষে ইইউ+ অঞ্চলে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার ছিল। তবে বিভিন্ন ধাপ মিলিয়ে আশ্রয় ব্যবস্থায় মোট অপেক্ষমাণ মামলার চাপ এখনো বড়।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ইইউএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। ফলে নতুন আবেদন কিছুটা বাড়লেও আগের মামলার জটও ইউরোপীয় আশ্রয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

ইইউএএ বলছে, বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও খুব কমসংখ্যক আবেদনকারী প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন নিয়মে দ্রুত যাচাই ও সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়ার সুযোগ বাড়ায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আশ্রয়প্রক্রিয়ার ধরনও বদলাতে পারে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদনের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন ও মিশ্র অভিবাসন প্রবাহেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

সূত্র: ইইউএএ, এএফপি।