ঢাকা ০৯:২৮ , Sat, ১৭ Oct ২০২৬

চা শ্রমিকের কুঁড়েঘর থেকে থেকে হার্ভার্ডে, ২ কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন শান্তা যাদব

জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৫
  • / 5
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার জন্য পেয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি। ছবি: প্রজন্ম কথা

মৌলভীবাজার, ১৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের ছোট্ট একটি ঘর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। চা শ্রমিক বাবা-মায়ের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও কম। সেই সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকেই উঠে এসে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামে পড়ার এই সুযোগ শান্তার জীবনে নতুন অধ্যায় খুলে দিচ্ছে।

শান্তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। চা বাগানের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত। শৈশব থেকে কাছ থেকে দেখা স্বাস্থ্যসেবার সংকট, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ মিলেই গড়ে উঠেছে এই দীর্ঘ পথচলা।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই চা শ্রমিক। সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোই তাঁদের জন্য কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী শান্তা নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।

লংলা চা বাগানের স্থানীয় স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেন শান্তা।

উচ্চশিক্ষার জন্য শান্তা ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়।

হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পাওয়ার আগে বিশ্বের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার প্রস্তাব পেয়েছিলেন শান্তা। নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রোগ্রামটি বেছে নেন। প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলছে তাঁর সামনে।

শান্তার কাছে জনস্বাস্থ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। চা বাগানের শ্রমিকেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, তা তিনি কাছ থেকেই দেখেছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে দূরে যেতে হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণের নানা সীমাবদ্ধতা তাঁর নিজের কমিউনিটির মানুষের জীবনের অংশ।

এসব অভিজ্ঞতা থেকেই জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় শান্তার। নিজের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার সুযোগ তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে শান্তাকে শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ হয়নি। তবু মেয়ের মেধা, আগ্রহ ও অধ্যবসায় দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন মেয়ে নিজের যোগ্যতায় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

শান্তার বর্তমান অর্জন সেই আশা এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগের প্রতিফলন। মাসে ১০ হাজার টাকারও কম আয়ের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, সীমিত সামর্থ্য সব সময় শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা নিজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি চা বাগানের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েও ভেবেছেন। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন তিনি।

চা বাগানের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে শান্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাঁর পথচলা অন্য শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের সামর্থ্য ও সুযোগ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।

হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। তাঁর এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং বেড়ে ওঠা কমিউনিটির মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

যে চা বাগানের সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখে তাঁর জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার পর সেই এলাকার মানুষের জন্যই কাজ করতে চান তিনি। হার্ভার্ডের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, সেটিই এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদবের এই পথচলা তাই একক কোনো সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক স্বপ্নের গল্প, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার সুযোগ, পরিবারের সমর্থন এবং নিজের শিকড়ের মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয়।

❤️
👏
🙂
😞

চা শ্রমিকের কুঁড়েঘর থেকে থেকে হার্ভার্ডে, ২ কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন শান্তা যাদব

প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৫

মৌলভীবাজার, ১৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের ছোট্ট একটি ঘর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। চা শ্রমিক বাবা-মায়ের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও কম। সেই সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকেই উঠে এসে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামে পড়ার এই সুযোগ শান্তার জীবনে নতুন অধ্যায় খুলে দিচ্ছে।

শান্তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। চা বাগানের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত। শৈশব থেকে কাছ থেকে দেখা স্বাস্থ্যসেবার সংকট, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ মিলেই গড়ে উঠেছে এই দীর্ঘ পথচলা।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই চা শ্রমিক। সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোই তাঁদের জন্য কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী শান্তা নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।

লংলা চা বাগানের স্থানীয় স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেন শান্তা।

উচ্চশিক্ষার জন্য শান্তা ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়।

হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পাওয়ার আগে বিশ্বের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার প্রস্তাব পেয়েছিলেন শান্তা। নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রোগ্রামটি বেছে নেন। প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলছে তাঁর সামনে।

শান্তার কাছে জনস্বাস্থ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। চা বাগানের শ্রমিকেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, তা তিনি কাছ থেকেই দেখেছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে দূরে যেতে হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণের নানা সীমাবদ্ধতা তাঁর নিজের কমিউনিটির মানুষের জীবনের অংশ।

এসব অভিজ্ঞতা থেকেই জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় শান্তার। নিজের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার সুযোগ তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে শান্তাকে শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ হয়নি। তবু মেয়ের মেধা, আগ্রহ ও অধ্যবসায় দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন মেয়ে নিজের যোগ্যতায় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

শান্তার বর্তমান অর্জন সেই আশা এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগের প্রতিফলন। মাসে ১০ হাজার টাকারও কম আয়ের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, সীমিত সামর্থ্য সব সময় শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা নিজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি চা বাগানের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েও ভেবেছেন। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন তিনি।

চা বাগানের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে শান্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাঁর পথচলা অন্য শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের সামর্থ্য ও সুযোগ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।

হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। তাঁর এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং বেড়ে ওঠা কমিউনিটির মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

যে চা বাগানের সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখে তাঁর জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার পর সেই এলাকার মানুষের জন্যই কাজ করতে চান তিনি। হার্ভার্ডের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, সেটিই এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদবের এই পথচলা তাই একক কোনো সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক স্বপ্নের গল্প, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার সুযোগ, পরিবারের সমর্থন এবং নিজের শিকড়ের মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয়।