মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘সিসিফাসের ফাঁদে’, নেপথ্যে কৌশলী অবস্থানে চীন
- প্রকাশঃ ০৪:৫২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 1
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন । ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই এক জটিল অবস্থার মুখে পড়ছে, যাকে বিশ্লেষকেরা ‘সিসিফাসের ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। একই সময়ে, ইরান সংকট ঘিরে চীন প্রকাশ্যে সংযত থাকলেও নেপথ্যে কৌশলী অবস্থান ধরে রেখেছে।
চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ইরান হলেও দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর বেইজিং শুরুতে তুলনামূলক নীরব ছিল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর চীন সীমিত প্রতিক্রিয়া জানায়। পরবর্তী নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়েও তারা সংযত অবস্থান বজায় রাখে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন একদিকে নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে চলছে। এর মাধ্যমে তারা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে রাখতে চায়, তেমনি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে দায়িত্বশীল ভাবমূর্তি বজায় রাখারও চেষ্টা করছে।
চীনের জন্য অর্থনৈতিক স্বার্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। চলমান সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ বেইজিংয়ের কম।
তবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধের কড়া সমালোচনা করেছে চীন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াবে এবং ইতোমধ্যে নাজুক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। চীন বরাবরই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এই সংঘাতে নেতৃত্ব নেওয়ার চেয়ে দূরত্ব বজায় রাখাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে তারা একটি সতর্ক বার্তা পেয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বজায় রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা সরাসরি কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাও এখন চীনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে সামনে রেখে বেইজিং এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইছে না, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নেপথ্যে চীন কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সক্রিয় রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তারা পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তা দিচ্ছে, যদিও এ ধরনের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে বেইজিং।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটে চীন ‘দ্বৈত কৌশল’ অনুসরণ করছে—একদিকে প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতা ও শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে নেপথ্যে নিজের স্বার্থ রক্ষায় হিসাবি পদক্ষেপ।
















