ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইসিজে-তে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ ডাকার ধৃষ্টতা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 26

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করে ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারের এই অপপ্রচারকে ‘সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। মূলত ২০১৬-১৭ সালের ভয়াবহ জাতিগত নিধনযজ্ঞকে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে বিশ্বদরবারে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিচয় বিকৃতির কৌশল নিয়েছে দেশটি।

বিজ্ঞপ্তিতে ঐতিহাসিক তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ারও শতাব্দীকাল আগে থেকে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক দলিল এবং ঔপনিবেশিক আমলের নথি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ দেয়। ফলে তাদের ‘বিদেশি’ বা ‘সাম্প্রতিক অভিবাসী’ দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে:

নাগরিকত্বের ইতিহাস: ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জাতীয় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা ভোটাধিকারও ভোগ করেছে।

পূর্ববর্তী স্বীকৃতি: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে মিয়ানমার নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছিল।

ভাষাগত পার্থক্য: চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু মিল থাকলেও সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক থেকে রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও প্রমাণহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের মিথ্যাচার কেবল আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার এবং নিজেদের মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা মাত্র।

মিয়ানমার গত আট বছরেও রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অতি দ্রুত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

আইসিজে-তে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ ডাকার ধৃষ্টতা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশঃ ১১:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করে ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারের এই অপপ্রচারকে ‘সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। মূলত ২০১৬-১৭ সালের ভয়াবহ জাতিগত নিধনযজ্ঞকে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে বিশ্বদরবারে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিচয় বিকৃতির কৌশল নিয়েছে দেশটি।

বিজ্ঞপ্তিতে ঐতিহাসিক তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ারও শতাব্দীকাল আগে থেকে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক দলিল এবং ঔপনিবেশিক আমলের নথি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ দেয়। ফলে তাদের ‘বিদেশি’ বা ‘সাম্প্রতিক অভিবাসী’ দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে:

নাগরিকত্বের ইতিহাস: ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জাতীয় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা ভোটাধিকারও ভোগ করেছে।

পূর্ববর্তী স্বীকৃতি: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে মিয়ানমার নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছিল।

ভাষাগত পার্থক্য: চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কিছু মিল থাকলেও সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক থেকে রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও প্রমাণহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের মিথ্যাচার কেবল আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার এবং নিজেদের মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা মাত্র।

মিয়ানমার গত আট বছরেও রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অতি দ্রুত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”