ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের দ্বিধা: কেন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলায় এগোয়নি

লেখা: মার্কো কার্নেলোস
  • প্রকাশঃ ০৭:২১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 4

ইরানি নেতৃত্ব আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পড়বে—এমন আশঙ্কা কম। ফাইল ছবি


ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়নি এবং ভেনেজুয়েলার মতো অভ্যুত্থানের পথও তৈরি করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে—ইন্টারনেট সীমিত করা, বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করা এবং হাজার হাজার স্যাটেলাইট-নির্ভর স্টারলিংক ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের রাস্তায় কি ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং কতজন নিহত হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ হলেও একটি বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত—নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট তথ্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলের জোরালো তাগিদ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের তেহরান লক্ষ্য করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়নি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—সম্ভবত পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা না থাকা, দ্রুত ও নিশ্চিত বিজয়ের নিশ্চয়তা না থাকা, বা আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্কবার্তা। কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতে, হামলা ইরানের পরিস্থিতি এমন অস্থির করে তুলতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তিনি প্রায়ই বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, তিন হাজার বছরের সংঘাত শেষ হয়েছে—যা বাস্তবে কল্পনার তুল্য। দাভোসে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি এবং সাম্প্রতিক ইরান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, তিনি প্রাথমিক দ্বিধার পরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নেগেটিভ নজির স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কট্টরপন্থী ইরানের পতনের স্বপ্ন দেখলেও, তা বর্তমান কঠোর শাসনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ইরানের শাসন ব্যবস্থা সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার মতো অভ্যুত্থান এখানে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি চাপের মুখে শক্ত অবস্থানে আছে।

ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরানে দ্রুত বিজয় তার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা বাড়াবে কি না। ইতিহাস ও বাস্তবতা দেখাচ্ছে, বাইরের চাপ দিয়ে শাসন পরিবর্তন আনা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধীরে ধীরে কৌশল সাজানোই বর্তমান অবস্থার মূল কারণ। ট্রাম্পের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের সমাধান বিদেশি হামলার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

  • মার্কো কার্নেলোস ইতালীয় কূটনীতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক

    মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ইরানে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের দ্বিধা: কেন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলায় এগোয়নি

প্রকাশঃ ০৭:২১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানি নেতৃত্ব আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পড়বে—এমন আশঙ্কা কম। ফাইল ছবি


ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়নি এবং ভেনেজুয়েলার মতো অভ্যুত্থানের পথও তৈরি করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে—ইন্টারনেট সীমিত করা, বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করা এবং হাজার হাজার স্যাটেলাইট-নির্ভর স্টারলিংক ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের রাস্তায় কি ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং কতজন নিহত হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ হলেও একটি বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত—নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট তথ্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলের জোরালো তাগিদ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের তেহরান লক্ষ্য করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়নি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—সম্ভবত পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা না থাকা, দ্রুত ও নিশ্চিত বিজয়ের নিশ্চয়তা না থাকা, বা আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্কবার্তা। কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতে, হামলা ইরানের পরিস্থিতি এমন অস্থির করে তুলতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তিনি প্রায়ই বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, তিন হাজার বছরের সংঘাত শেষ হয়েছে—যা বাস্তবে কল্পনার তুল্য। দাভোসে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি এবং সাম্প্রতিক ইরান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, তিনি প্রাথমিক দ্বিধার পরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নেগেটিভ নজির স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কট্টরপন্থী ইরানের পতনের স্বপ্ন দেখলেও, তা বর্তমান কঠোর শাসনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ইরানের শাসন ব্যবস্থা সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার মতো অভ্যুত্থান এখানে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি চাপের মুখে শক্ত অবস্থানে আছে।

ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরানে দ্রুত বিজয় তার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা বাড়াবে কি না। ইতিহাস ও বাস্তবতা দেখাচ্ছে, বাইরের চাপ দিয়ে শাসন পরিবর্তন আনা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধীরে ধীরে কৌশল সাজানোই বর্তমান অবস্থার মূল কারণ। ট্রাম্পের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের সমাধান বিদেশি হামলার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

  • মার্কো কার্নেলোস ইতালীয় কূটনীতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক

    মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”