ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোরআনের সঙ্গে হৃদয়, মন ও জীবনকে জুড়ে দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ ইবাদত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 21

কোরআন তিলাওয়াতের অর্থ অনেকে সীমাবদ্ধভাবে কেবল আরবি উচ্চারণের সঙ্গে জুড়ে দেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে তিলাওয়াতের প্রকৃত অর্থ আরও গভীর এবং ব্যাপক। এটি শুধু কোরআন পড়া নয়, বরং কোরআনের শিক্ষা বোঝা, অনুসরণ করা এবং জীবনকে তার নির্দেশনার আলোকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়া।

তিলাওয়াত মানে ধারাবাহিকভাবে কোরআন অনুসরণ করা, আদর্শ ও পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা। যারা কোরআনের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক তিন স্তরে গড়ে ওঠে—কোরআন পড়া, কোরআন বোঝা এবং কোরআনের অনুসরণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিলাওয়াত এমন একটি ইবাদত যেখানে মানুষের আত্মা, মন, হৃদয়, জিহ্বা ও দেহ সবই সম্পৃক্ত হয়। আয়াত উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মন চিন্তা করে, হৃদয় গভীরভাবে অনুভব করে এবং আত্মা গ্রহণ করে। কোরআনের তিলাওয়াতের সময় চোখে পানি চলে আসে, শরীর শিহরিত হয় এবং হৃদয় নরম হয়ে যায়। কোরআনে উল্লেখ আছে, এটাই আল্লাহর নূর ও হেদায়েত, যার মাধ্যমে তিনি যাকে চান পথ দেখান।

কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ধৈর্য, মনোযোগ, আত্মত্যাগ এবং পরিশ্রম প্রয়োজন। এটি সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত তিলাওয়াত এবং আয়াতের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রভাব ফেলে। তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআন মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে এবং জীবন পরিবর্তনের শক্তি দেয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কোরআনের সঙ্গীকে বলা হবে, পড়তে থাকো এবং ওপরে উঠতে থাকো। জান্নাতে তোমার চূড়ান্ত অবস্থান হবে সেই আয়াত পর্যন্ত, যেখানে তোমার তিলাওয়াত শেষ হবে।

অতএব, কোরআন তিলাওয়াত শুধু শব্দে উচ্চারণ নয়; এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কোরআনের নির্দেশনাকে সঙ্গী করে নেওয়ার নাম।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

কোরআনের সঙ্গে হৃদয়, মন ও জীবনকে জুড়ে দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ ইবাদত

প্রকাশঃ ০৩:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

কোরআন তিলাওয়াতের অর্থ অনেকে সীমাবদ্ধভাবে কেবল আরবি উচ্চারণের সঙ্গে জুড়ে দেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে তিলাওয়াতের প্রকৃত অর্থ আরও গভীর এবং ব্যাপক। এটি শুধু কোরআন পড়া নয়, বরং কোরআনের শিক্ষা বোঝা, অনুসরণ করা এবং জীবনকে তার নির্দেশনার আলোকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়া।

তিলাওয়াত মানে ধারাবাহিকভাবে কোরআন অনুসরণ করা, আদর্শ ও পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা। যারা কোরআনের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক তিন স্তরে গড়ে ওঠে—কোরআন পড়া, কোরআন বোঝা এবং কোরআনের অনুসরণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিলাওয়াত এমন একটি ইবাদত যেখানে মানুষের আত্মা, মন, হৃদয়, জিহ্বা ও দেহ সবই সম্পৃক্ত হয়। আয়াত উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মন চিন্তা করে, হৃদয় গভীরভাবে অনুভব করে এবং আত্মা গ্রহণ করে। কোরআনের তিলাওয়াতের সময় চোখে পানি চলে আসে, শরীর শিহরিত হয় এবং হৃদয় নরম হয়ে যায়। কোরআনে উল্লেখ আছে, এটাই আল্লাহর নূর ও হেদায়েত, যার মাধ্যমে তিনি যাকে চান পথ দেখান।

কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ধৈর্য, মনোযোগ, আত্মত্যাগ এবং পরিশ্রম প্রয়োজন। এটি সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত তিলাওয়াত এবং আয়াতের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রভাব ফেলে। তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআন মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে এবং জীবন পরিবর্তনের শক্তি দেয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কোরআনের সঙ্গীকে বলা হবে, পড়তে থাকো এবং ওপরে উঠতে থাকো। জান্নাতে তোমার চূড়ান্ত অবস্থান হবে সেই আয়াত পর্যন্ত, যেখানে তোমার তিলাওয়াত শেষ হবে।

অতএব, কোরআন তিলাওয়াত শুধু শব্দে উচ্চারণ নয়; এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কোরআনের নির্দেশনাকে সঙ্গী করে নেওয়ার নাম।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”