আল্লাহর পরিকল্পনায় ভরসা: প্রশান্তির পথে এক বিশ্বাস
- প্রকাশঃ ১২:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন পরিবেশ ও পরিস্থিতি প্রত্যাশার বিপরীত দিকে মোড় নেয়। তখন হতাশা, ক্ষোভ ও নিরাশা মনে ভর করে। কেন এমন হলো, যদি অন্যভাবে হতো—এই প্রশ্নগুলো মানুষকে মানসিকভাবে আরও অস্থির করে তোলে। ইসলাম এসব মুহূর্তে এক গভীর ও কার্যকর সমাধান দেয়—আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরের ওপর পূর্ণ আস্থা ও তাওয়াক্কুল।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের উপর লড়াইয়ের বিধান দেওয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। আর হতে পারে, কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে, কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬)
এই আয়াতের আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না—এই অংশটিই একজন মুমিনের আশা ও ভরসার মূলভিত্তি। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইহসান ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা—সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করে জীবন পরিচালনা করা।
এই বিশ্বাস মানুষের মন থেকে দুটি ক্ষতিকর প্রশ্ন দূর করে—কেন ও যদি। এসব প্রশ্ন অতীতের সঙ্গে মানুষকে বেঁধে রাখে এবং সামনে এগিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। বরং এই উপলব্ধি জাগ্রত হওয়া জরুরি যে, আল্লাহ যা জানেন, মানুষ তা জানে না।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকদির মেনে নেওয়া মানে বাস্তবতাকে স্বীকার করে ধৈর্য ধারণ করা। এর মাধ্যমে মানুষ দুটি বড় নেয়ামত লাভ করে—অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পারাই মানসিক অশান্তির প্রধান কারণ। বাস্তবতা যখন ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না, তখন হতাশা ও ক্ষোভ জন্ম নেয়। কিন্তু যখন একজন মানুষ আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখে, তখন সে সেই পরিস্থিতিতেও শক্তি ও স্থিরতা খুঁজে পায়।
তাই জীবনের প্রতিটি ধাপে, বিশেষ করে দুঃসময়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাকদির মেনে নেওয়া এবং সেই বিশ্বাস থেকেই সাহস ও প্রশান্তি অর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অপরিহার্য।






























