নববী ঘোষণায় রমজানে উমরাহর বিশেষ ফজিলত
- প্রকাশঃ ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 42
ইসলামে ইবাদতের মূল্যায়ন কেবল তার বাহ্যিক রূপ বা পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নিয়ত, সময় ও বাস্তব প্রেক্ষাপটের গুরুত্বও এতে গভীরভাবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় মানুষের ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক দায়িত্ব, অভাব কিংবা অনিবার্য পরিস্থিতি ফরজ ইবাদত আদায়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের বিকল্প পথ খুলে দেন—যাতে কেউ হতাশ না হয়, কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে না করে।
রমজান মাসে উমরাহ আদায়ের অসাধারণ ফজিলত সংক্রান্ত একটি হাদিসে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নামের এক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে হজ আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, আমার স্বামী (অমুকের আববা) আমাদের পানি তোলার জন্য ব্যবহৃত দুটি উটের একটি নিয়ে হজে গেছেন। আর অন্যটি দিয়ে আমাদের জমিতে পানি সেচ দেওয়া হয়।
এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
রমজান মাসে একটি উমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
অথবা আমার সঙ্গে একটি হজ আদায় করার সমান।
—(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৬৩)
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি কতটা দয়ালু ও অনুগ্রহশীল। যেসব মানুষ বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে ফরজ হজ আদায় করতে পারেননি, তাদের জন্য রমজান মাসে উমরাহ আদায়ের মাধ্যমে সমপর্যায়ের সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এ ফজিলত উমরাহকে হজের বিকল্প হিসেবে প্রতিস্থাপন করে না; বরং সওয়াবের দিক থেকে বিশেষ মর্যাদা ও উৎসাহ প্রদান করে। ফরজ হজ আদায়ের সক্ষমতা যাদের নেই, তারা যেন এই সুযোগকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করেন।
অতএব, আসুন আমরা রমজান মাসে উমরাহ আদায়ের এই সুবর্ণ সুযোগকে অবহেলা না করি। যাদের জন্য উমরাহ আদায় করাও সম্ভব নয়, তারা যেন অন্তত এই হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা উপলব্ধি করে নিয়ত, ইখলাস ও ইবাদতে আরও যত্নবান হন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।






























