ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুখারির পর এবার মুসলিম শরিফও মুখস্থ করলেন হাফেজ মাসউদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 15

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তারাটি চরপাড়া গ্রামের হাফেজ মাসউদুর রহমান সম্প্রতি বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন। দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর হিফজুল হাদিস বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি শুধু বুখারি শরিফ নয়, মুসলিম শরিফও পূর্ণ মুখস্থ করেছেন।

হাফেজ মাসউদুর রহমানের জন্ম ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পবিত্র জুমার সকালে। ধর্মপ্রাণ পিতা তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তিনি শৈশব থেকেই দ্বীনি শিক্ষায় অভ্যস্ত হন। মাত্র ছয় বছর বয়সে বড় ভাই মুফতি আশরাফুল ইসলামের নির্দেশনায় ধনবাড়ির নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসায় ভর্তি হন। নুরানি ও নাজেরা সম্পন্ন করার পর নিজ গ্রামে হাফেজ রফিকুল ইসলামের আহমদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ শিক্ষা শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মুফতি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইদারাতুল মাআরিফ আশ-শারইয়্যাহ এবং ময়মনসিংহের আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া দারুস সালাম মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। আরও দুই বছর আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ আবু সালেহ মো. মুসা প্রতিষ্ঠিত তাহসিনুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় কোরআন শোনার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালে মাসউদুর রহমান জামিয়া আরাবিয়া মিসবাহুল উলুম কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হন। এরপর মিজান থেকে কাফিয়া পর্যন্ত ময়মনসিংহের মাদরাসাতুন নুরে এবং পরে মুক্তাগাছার পৌর গোরস্তান মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। সবশেষে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে মেশকাত ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

মাসউদুর রহমান প্রতিটি পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টার মার্কস) অর্জন করেছেন। তিনি ‘এসো খত্তে রুকআ শিখি’ নামে হাতের লেখা শেখার একটি বইও লিখেছেন। দাওরায়ে হাদিস শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শে সোনারগাঁওয়ের বাগমুছা হিফজুল হাদিস মাদরাসায় বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ মুখস্থ করে শিক্ষাজগতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এই সাফল্য শুধু তার মেধার পরিচায়ক নয়, বরং অনন্য অধ্যবসায় ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি নিবেদনের প্রমাণও বটে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বুখারির পর এবার মুসলিম শরিফও মুখস্থ করলেন হাফেজ মাসউদুর রহমান

প্রকাশঃ ০১:১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তারাটি চরপাড়া গ্রামের হাফেজ মাসউদুর রহমান সম্প্রতি বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন। দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর হিফজুল হাদিস বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি শুধু বুখারি শরিফ নয়, মুসলিম শরিফও পূর্ণ মুখস্থ করেছেন।

হাফেজ মাসউদুর রহমানের জন্ম ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পবিত্র জুমার সকালে। ধর্মপ্রাণ পিতা তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তিনি শৈশব থেকেই দ্বীনি শিক্ষায় অভ্যস্ত হন। মাত্র ছয় বছর বয়সে বড় ভাই মুফতি আশরাফুল ইসলামের নির্দেশনায় ধনবাড়ির নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসায় ভর্তি হন। নুরানি ও নাজেরা সম্পন্ন করার পর নিজ গ্রামে হাফেজ রফিকুল ইসলামের আহমদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ শিক্ষা শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মুফতি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইদারাতুল মাআরিফ আশ-শারইয়্যাহ এবং ময়মনসিংহের আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া দারুস সালাম মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। আরও দুই বছর আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ আবু সালেহ মো. মুসা প্রতিষ্ঠিত তাহসিনুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় কোরআন শোনার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালে মাসউদুর রহমান জামিয়া আরাবিয়া মিসবাহুল উলুম কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হন। এরপর মিজান থেকে কাফিয়া পর্যন্ত ময়মনসিংহের মাদরাসাতুন নুরে এবং পরে মুক্তাগাছার পৌর গোরস্তান মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। সবশেষে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে মেশকাত ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

মাসউদুর রহমান প্রতিটি পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টার মার্কস) অর্জন করেছেন। তিনি ‘এসো খত্তে রুকআ শিখি’ নামে হাতের লেখা শেখার একটি বইও লিখেছেন। দাওরায়ে হাদিস শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শে সোনারগাঁওয়ের বাগমুছা হিফজুল হাদিস মাদরাসায় বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ মুখস্থ করে শিক্ষাজগতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এই সাফল্য শুধু তার মেধার পরিচায়ক নয়, বরং অনন্য অধ্যবসায় ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি নিবেদনের প্রমাণও বটে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”