ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ বাদ, ভারতের ক্ষেত্রে ছাড়—আইসিসির নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 13

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিগত অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট সাময়িকী উইজডেন। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকার সমালোচনা করেছে তারা। একই পরিস্থিতিতে ভারতের আবেদনে নমনীয় আচরণ করায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’-এর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয় আইসিসি। এর আগে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে ম্যাচ আয়োজনের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারত সফরে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত দেয়। বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে এর আগে ভারতকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল আইসিসি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পাকিস্তানে আয়োজনের কথা থাকলেও ভারত সেখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের দাবি তোলে। দীর্ঘ আলোচনার পর আইসিসি ভারতের সেই দাবি মেনে নেয়। ফলস্বরূপ, ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলেছিল এবং ভ্রমণ ঝামেলা এড়িয়ে একই ভেন্যুতে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে।

এই দুই ঘটনার তুলনা টেনে উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা কি শর্তসাপেক্ষ? প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে তিন মাস সময় পেয়েছিল, অথচ সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। সময়ের এই ব্যবধানই কি আইসিসির ভিন্ন আচরণকে বৈধতা দেয়?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানায় বিসিসিআই। যদিও নিরাপত্তার কথা প্রকাশ্যে বলা হয়নি; ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়। উইজডেন মনে করে, এটি ছিল রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ বিষয়টিকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে—এই প্রশ্ন তুলেছে বিসিবি। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও ব্যাখ্যাহীন, যা ক্রিকেটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের স্পষ্ট বার্তা দেয় বলে মন্তব্য করেছে উইজডেন।

প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে ভারত—এমন মন্তব্য করে উইজডেন জানায়, বাংলাদেশ আত্মসম্মান ও নীতিগত অবস্থান থেকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পক্ষে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত সেটিই তাদের বিপক্ষে গেছে। কারণ, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও বাজারমূল্যের কারণে আইসিসির জন্য ভারতকে ছাড়া টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। ফলে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারত তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তেমন প্রভাব বা আর্থিক শক্তি না থাকায় তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বিশ্বকাপে থাকা বাংলাদেশ এখন টুর্নামেন্টের বাইরে—শুধু নিজেদের নিরাপত্তা ও নীতির পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই।

উইজডেনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব কীভাবে সিদ্ধান্তকে নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে পারে। আর তাতেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার দাবি।’

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ বাদ, ভারতের ক্ষেত্রে ছাড়—আইসিসির নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ

প্রকাশঃ ০৩:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিগত অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট সাময়িকী উইজডেন। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকার সমালোচনা করেছে তারা। একই পরিস্থিতিতে ভারতের আবেদনে নমনীয় আচরণ করায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’-এর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয় আইসিসি। এর আগে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে ম্যাচ আয়োজনের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারত সফরে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত দেয়। বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে এর আগে ভারতকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল আইসিসি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পাকিস্তানে আয়োজনের কথা থাকলেও ভারত সেখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের দাবি তোলে। দীর্ঘ আলোচনার পর আইসিসি ভারতের সেই দাবি মেনে নেয়। ফলস্বরূপ, ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলেছিল এবং ভ্রমণ ঝামেলা এড়িয়ে একই ভেন্যুতে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে।

এই দুই ঘটনার তুলনা টেনে উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা কি শর্তসাপেক্ষ? প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে তিন মাস সময় পেয়েছিল, অথচ সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। সময়ের এই ব্যবধানই কি আইসিসির ভিন্ন আচরণকে বৈধতা দেয়?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানায় বিসিসিআই। যদিও নিরাপত্তার কথা প্রকাশ্যে বলা হয়নি; ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়। উইজডেন মনে করে, এটি ছিল রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ বিষয়টিকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে—এই প্রশ্ন তুলেছে বিসিবি। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও ব্যাখ্যাহীন, যা ক্রিকেটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের স্পষ্ট বার্তা দেয় বলে মন্তব্য করেছে উইজডেন।

প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে ভারত—এমন মন্তব্য করে উইজডেন জানায়, বাংলাদেশ আত্মসম্মান ও নীতিগত অবস্থান থেকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পক্ষে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত সেটিই তাদের বিপক্ষে গেছে। কারণ, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও বাজারমূল্যের কারণে আইসিসির জন্য ভারতকে ছাড়া টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। ফলে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারত তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তেমন প্রভাব বা আর্থিক শক্তি না থাকায় তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বিশ্বকাপে থাকা বাংলাদেশ এখন টুর্নামেন্টের বাইরে—শুধু নিজেদের নিরাপত্তা ও নীতির পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই।

উইজডেনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব কীভাবে সিদ্ধান্তকে নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে পারে। আর তাতেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার দাবি।’

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”