বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নে বাধা হতে পারে: গার্ডিয়ান খবর
- প্রকাশঃ ১২:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 10
বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক ক্রীড়া ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কঠোর অবস্থান ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। বিষয়টি দ্রুতই দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে অনুরোধ করে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য। তবে ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভা শেষে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে।
বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির হলেও এ বিষয়ে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) প্রভাব বিস্তার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে না নিতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসিতে তদবির করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইসিসি কাগজে-কলমে স্বাধীন সংস্থা হলেও ভারতের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস পুরোনো। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে আর্থিক ও সম্প্রচার স্বত্বের কারণে ভারতকে আগাম সেমিফাইনাল ভেন্যু নিশ্চিত করে দেওয়ার ঘটনাও সমালোচিত হয়েছিল।
গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে, বিসিসিআই আইসিসিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন এবং তাঁর বাবা অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া আইসিসির বর্তমান প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা আগে জিও-স্টারের স্পোর্টস বিভাগের প্রধান ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠান ভারতে আইসিসির সব ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন এখন বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে গার্ডিয়ান। গত মাসে দিল্লি ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের লক্ষ্য এখন ২০৩৬ সালের আহমেদাবাদ অলিম্পিক। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইসিসির তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। আইওসির একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে—এমন ঝুঁকি থাকলে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়াটা তাদের কাছে প্রায় ‘অকল্পনীয়’। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হয় এবং অলিম্পিক চলাকালীন যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
আইওসির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উদাহরণ গত অক্টোবরে পাওয়া গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইন্দোনেশিয়াকে সাময়িকভাবে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের আগ্রহী ছিল।
১৯০০ সালের পর ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। ২০৩২ ব্রিসবেন আসরেও ক্রিকেট থাকছে। অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির পেছনে ভারতের বিশাল বাজারের ভূমিকা থাকলেও, আইওসি স্পষ্ট করেছে—এটি কোনো রাজনৈতিক শর্তে নয়।
বর্তমান টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে না গিয়ে দুবাইয়ে খেলেছিল। সে সময় আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে সমঝোতায় নির্ধারিত হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তানের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। দুই দেশ বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজও খেলছে না।
গার্ডিয়ানকে আইওসির ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, অলিম্পিক আয়োজনের উপযুক্ত আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রমাণ দিতে হবে ভারতকে।



























