ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: সুপার সিক্সের সমীকরণ বদলে দিল পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড ছিটকে যাওয়ার কারণ কী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১২:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 25

হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারালেও ম্যাচটি ঘিরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। নিয়মের ফাঁক কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান এমনভাবে ম্যাচটি জিতেছে, যাতে হেরে যাওয়া জিম্বাবুয়ে উঠে গেছে সুপার সিক্সে, আর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সুপার সিক্স নিশ্চিত ছিল আগেই। তবে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য যদি পাকিস্তান ২৫.২ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে পারত, তাহলে সুপার সিক্সে জায়গা পেত স্কটল্যান্ড। কিন্তু পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে রান তাড়ার গতি কমিয়ে ম্যাচ শেষ করে ২৬.২ ওভারে।

ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তান দ্রুত রান তুললেও ১৪ ওভার শেষে ৮৪ রান করার পর আচমকাই ব্যাটিংয়ের গতি কমে যায়। জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল ১১.২ ওভারে মাত্র ৪৫ রান। কিন্তু পরবর্তী ১২ ওভারে আসে মাত্র ৩৬ রান, টানা ৮৯ বল কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই। শেষ পর্যন্ত ২৫ ওভার পূর্ণ হওয়ার পর সামির মিনহাস টানা দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন।

নেট রানরেটের হিসাবেই সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের এই কৌশলের পেছনে রয়েছে সুপার সিক্স পর্বের নেট রানরেটের হিসাব। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে যে দলগুলো সুপার সিক্সে ওঠে, শুধু তাদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলোর পয়েন্ট ও নেট রানরেট পরের পর্বে বহন করা হয়।

পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে—উভয়ের বিপক্ষেই জয় পেয়েছিল। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের জয় ছিল বড় ব্যবধানে—৯ উইকেট হাতে রেখে এবং ৩৩.৪ ওভার বাকি থাকতেই। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিল তুলনামূলক কম ব্যবধানে। ফলে জিম্বাবুয়েকে সুপার সিক্সে তুলে পাকিস্তান নিজেদের নেট রানরেট সর্বোচ্চ রাখার সুযোগ পায়।

ফ্লাওয়ারের সমর্থন, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়া জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের কৌশলকে সমর্থন করেছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, “এটা পাকিস্তানের জন্য যৌক্তিক কৌশল ছিল। সুপার সিক্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি যুক্ত হওয়ায় তাদের নেট রানরেট স্কটল্যান্ড উঠলে যতটা হতো, তার চেয়ে ভালো থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম শর্ত ছিল ম্যাচ না হারানো। এরপর তারা সচেতনভাবেই গতি কমিয়েছে। নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এটিকে অন্যায় মনে করি না।”

স্কটল্যান্ড বাদ পড়ার সময় ধারাভাষ্যে ফ্লাওয়ার বলেন, “স্কটল্যান্ডের জন্য এটা খুবই কষ্টের মুহূর্ত।” তবে তিনি আবারও বলেন, “পরের রাউন্ডে সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল এবং এতে খেলাটার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়নি।”

অতীতেও এমন নজির

এ ধরনের কৌশলের নজির নতুন নয়। ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে পয়েন্ট বহনের সুবিধা নিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই ধরনের পরিকল্পনার চেষ্টা করেছিলেন।

সব মিলিয়ে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের এই ‘কৌশলী জয়’ ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা নাকি নৈতিকতার প্রশ্ন—সে বিতর্ক নতুন করে উসকে দিল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: সুপার সিক্সের সমীকরণ বদলে দিল পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড ছিটকে যাওয়ার কারণ কী

প্রকাশঃ ১২:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারালেও ম্যাচটি ঘিরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। নিয়মের ফাঁক কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান এমনভাবে ম্যাচটি জিতেছে, যাতে হেরে যাওয়া জিম্বাবুয়ে উঠে গেছে সুপার সিক্সে, আর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সুপার সিক্স নিশ্চিত ছিল আগেই। তবে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য যদি পাকিস্তান ২৫.২ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে পারত, তাহলে সুপার সিক্সে জায়গা পেত স্কটল্যান্ড। কিন্তু পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে রান তাড়ার গতি কমিয়ে ম্যাচ শেষ করে ২৬.২ ওভারে।

ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তান দ্রুত রান তুললেও ১৪ ওভার শেষে ৮৪ রান করার পর আচমকাই ব্যাটিংয়ের গতি কমে যায়। জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল ১১.২ ওভারে মাত্র ৪৫ রান। কিন্তু পরবর্তী ১২ ওভারে আসে মাত্র ৩৬ রান, টানা ৮৯ বল কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই। শেষ পর্যন্ত ২৫ ওভার পূর্ণ হওয়ার পর সামির মিনহাস টানা দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন।

নেট রানরেটের হিসাবেই সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের এই কৌশলের পেছনে রয়েছে সুপার সিক্স পর্বের নেট রানরেটের হিসাব। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে যে দলগুলো সুপার সিক্সে ওঠে, শুধু তাদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলোর পয়েন্ট ও নেট রানরেট পরের পর্বে বহন করা হয়।

পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে—উভয়ের বিপক্ষেই জয় পেয়েছিল। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের জয় ছিল বড় ব্যবধানে—৯ উইকেট হাতে রেখে এবং ৩৩.৪ ওভার বাকি থাকতেই। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিল তুলনামূলক কম ব্যবধানে। ফলে জিম্বাবুয়েকে সুপার সিক্সে তুলে পাকিস্তান নিজেদের নেট রানরেট সর্বোচ্চ রাখার সুযোগ পায়।

ফ্লাওয়ারের সমর্থন, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়া জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের কৌশলকে সমর্থন করেছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, “এটা পাকিস্তানের জন্য যৌক্তিক কৌশল ছিল। সুপার সিক্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি যুক্ত হওয়ায় তাদের নেট রানরেট স্কটল্যান্ড উঠলে যতটা হতো, তার চেয়ে ভালো থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম শর্ত ছিল ম্যাচ না হারানো। এরপর তারা সচেতনভাবেই গতি কমিয়েছে। নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এটিকে অন্যায় মনে করি না।”

স্কটল্যান্ড বাদ পড়ার সময় ধারাভাষ্যে ফ্লাওয়ার বলেন, “স্কটল্যান্ডের জন্য এটা খুবই কষ্টের মুহূর্ত।” তবে তিনি আবারও বলেন, “পরের রাউন্ডে সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল এবং এতে খেলাটার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়নি।”

অতীতেও এমন নজির

এ ধরনের কৌশলের নজির নতুন নয়। ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে পয়েন্ট বহনের সুবিধা নিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই ধরনের পরিকল্পনার চেষ্টা করেছিলেন।

সব মিলিয়ে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের এই ‘কৌশলী জয়’ ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা নাকি নৈতিকতার প্রশ্ন—সে বিতর্ক নতুন করে উসকে দিল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”