ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল, বাদ পড়লেন যারা
- প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬
- / 8
ওয়াশিংটন, ১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধে জড়িত থাকা, প্রতারণা, সহিংসতায় উৎসাহ দেওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর। হামলা, মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগও তালিকায় রয়েছে।
দপ্তরটি কয়েকটি গুরুতর মামলার উদাহরণও দিয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানবপাচার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপকরণ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এসব উদাহরণকে ভিসা বাতিলের সামগ্রিক সংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ভিসা বাতিলের আরেকটি ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি উঠে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস এমন ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যেসব আবেদনকারী সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়া।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরেই এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, মোট বাতিলের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে ভিসা যাচাই ও প্রয়োগের বিষয়টি আরও কঠোর হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনার ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন বলছে, ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অধিকার নয়; এটি নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে দেওয়া একটি অনুমতি। সেই শর্ত ভঙ্গ করলে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তা বা আইনগত ঝুঁকি তৈরি করলে ভিসা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে অভিবাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষ প্রশাসনের এই কঠোর যাচাই-বাছাই নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, অপরাধের অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিসংখ্যানটি মূলত ভিসা বাতিলের সংখ্যা। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীর সংখ্যা বা নতুন ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা নয়। ফলে তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।





























