ঢাকা ০৪:০২ , Mon, ৩১ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

এইচ-১বি ভিসাধারীদের চাকরি শেষে ৬০ দিন থাকার সুযোগ বাতিলে আরও এক ধাপ এগোল ট্রাম্প প্রশাসন

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৮
  • / 8
ফাইল ছবি সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ৩০ আগস্ট (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও অন্যান্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসায় থাকা বিদেশি পেশাজীবীদের চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন অবস্থানের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা, ভিসা পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতির জন্য বর্তমান সময়সীমা আর নাও থাকতে পারে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত ৬ আগস্ট ‘বিবেচনাধীন ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক দপ্তরে পর্যালোচনার জন্য পাঠায়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট কিছু পরিবর্তনসহ প্রস্তাবটির পর্যালোচনা শেষ হয়েছে।

তবে খসড়াটি এখনো সরকারি গেজেট বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়নি। ফলে এর চূড়ান্ত শর্তগুলো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং বর্তমান নিয়মও বহাল রয়েছে।

কীভাবে বদলাতে পারে নিয়ম

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতার কর্মী চাকরি হারালে বা চাকরি শেষ হলে পরবর্তী টানা ৬০ দিন অথবা অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারেন। দুটি সময়সীমার মধ্যে যেটি আগে শেষ হয়, সেটিই প্রযোজ্য।

এই সময়ের মধ্যে কর্মীরা নতুন চাকরি ও নিয়োগকর্তা খুঁজতে, ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করতে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই সুবিধা এইচ-১বি ছাড়াও এল-১, ও-১সহ কয়েকটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এই সময়সীমা বাতিল হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পরবর্তী ধাপে খসড়াটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসাধারী ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল হলে চাকরি হারানো ভারতীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জবিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অজয় জেন ভুতোরিয়া প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলের পরিবর্তে তা ১৮০ দিনে বাড়ানো উচিত।

ভুতোরিয়া বলেন, দক্ষ কোনো কর্মী হঠাৎ চাকরি হারালে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসা স্থানান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য ৬০ দিনই অল্প সময়।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ চাকরি হারানোর পর বাড়িঘর, সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবারের অন্যান্য বিষয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে সামাল দেওয়া অনেক পরিবারের জন্য কঠিন।

২০২৩ সালের মার্চে হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটিতে ভুতোরিয়া ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাড়িয়ে ১৮০ দিন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

তাঁর যুক্তি ছিল, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে নতুন চাকরি পেতে অনেক সময় একাধিক ধাপে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এরপর নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে ভিসা স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

ভুতোরিয়া বলেন, ৬০ দিনের সুযোগ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলে দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তিনি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর কমিউনিটি সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতামত জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এইচ-১বি ভিসার ভূমিকা

এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত ও উচ্চ দক্ষতার বিভিন্ন পেশায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেন। প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য দক্ষতাভিত্তিক খাতে এই ভিসার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে চাকরি হারানোর পর ৬০ দিনের সুযোগটি অনেক কর্মীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান বজায় রেখে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে কাজ করে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই সুযোগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

এইচ-১বি ভিসাধারীদের চাকরি শেষে ৬০ দিন থাকার সুযোগ বাতিলে আরও এক ধাপ এগোল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশঃ ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৮

ওয়াশিংটন, ৩০ আগস্ট (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও অন্যান্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসায় থাকা বিদেশি পেশাজীবীদের চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন অবস্থানের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা, ভিসা পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতির জন্য বর্তমান সময়সীমা আর নাও থাকতে পারে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত ৬ আগস্ট ‘বিবেচনাধীন ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক দপ্তরে পর্যালোচনার জন্য পাঠায়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট কিছু পরিবর্তনসহ প্রস্তাবটির পর্যালোচনা শেষ হয়েছে।

তবে খসড়াটি এখনো সরকারি গেজেট বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়নি। ফলে এর চূড়ান্ত শর্তগুলো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং বর্তমান নিয়মও বহাল রয়েছে।

কীভাবে বদলাতে পারে নিয়ম

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতার কর্মী চাকরি হারালে বা চাকরি শেষ হলে পরবর্তী টানা ৬০ দিন অথবা অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারেন। দুটি সময়সীমার মধ্যে যেটি আগে শেষ হয়, সেটিই প্রযোজ্য।

এই সময়ের মধ্যে কর্মীরা নতুন চাকরি ও নিয়োগকর্তা খুঁজতে, ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করতে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই সুবিধা এইচ-১বি ছাড়াও এল-১, ও-১সহ কয়েকটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এই সময়সীমা বাতিল হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পরবর্তী ধাপে খসড়াটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসাধারী ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল হলে চাকরি হারানো ভারতীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জবিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অজয় জেন ভুতোরিয়া প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলের পরিবর্তে তা ১৮০ দিনে বাড়ানো উচিত।

ভুতোরিয়া বলেন, দক্ষ কোনো কর্মী হঠাৎ চাকরি হারালে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসা স্থানান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য ৬০ দিনই অল্প সময়।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ চাকরি হারানোর পর বাড়িঘর, সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবারের অন্যান্য বিষয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে সামাল দেওয়া অনেক পরিবারের জন্য কঠিন।

২০২৩ সালের মার্চে হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটিতে ভুতোরিয়া ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাড়িয়ে ১৮০ দিন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

তাঁর যুক্তি ছিল, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে নতুন চাকরি পেতে অনেক সময় একাধিক ধাপে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এরপর নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে ভিসা স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

ভুতোরিয়া বলেন, ৬০ দিনের সুযোগ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলে দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তিনি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর কমিউনিটি সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতামত জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এইচ-১বি ভিসার ভূমিকা

এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত ও উচ্চ দক্ষতার বিভিন্ন পেশায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেন। প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য দক্ষতাভিত্তিক খাতে এই ভিসার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে চাকরি হারানোর পর ৬০ দিনের সুযোগটি অনেক কর্মীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান বজায় রেখে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে কাজ করে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই সুযোগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।