বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চলবে: মোজতবা খামেনি
- প্রকাশঃ ১০:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / 33
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের ১২তম দিনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ না করা পর্যন্ত সেগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো এই বক্তব্য দেন মোজতবা খামেনি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, “ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। তবে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে, যদি সেগুলো বন্ধ না করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হবে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ সময় আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ইয়েমেনের যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীও ‘ইসলামি বিপ্লবকে’ সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ
দেশ যখন একাধিক দিক থেকে হামলার মুখে, তখন ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, “আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাই, যারা এই কঠিন সময়ে অসাধারণ দায়িত্ব পালন করছেন। ইরান তার লড়াই চালিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এরপর গত রোববার ইরানের ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বসম্মতিক্রমে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, নতুন নেতার এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, তিনি হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা


















