ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 46

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পবিত্র কোরআন হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করার এই মুহূর্তটি শহরটির বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শপথ গ্রহণের জন্য মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ওল্ড সিটি হল’ সাবওয়ে স্টেশন। তার ট্রানজিশন টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্থানটি নিউ ইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্য ও অবদানের প্রতীক-যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখেন।

মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ উপলক্ষে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে তার পরিবার নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয়। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানির সামনে যেমন ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কঠিন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা নিরসনের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তাকে কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে শুধু নিউ ইয়র্কবাসী নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল গভীর নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

প্রকাশঃ ০১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পবিত্র কোরআন হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করার এই মুহূর্তটি শহরটির বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শপথ গ্রহণের জন্য মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ওল্ড সিটি হল’ সাবওয়ে স্টেশন। তার ট্রানজিশন টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্থানটি নিউ ইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্য ও অবদানের প্রতীক-যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখেন।

মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ উপলক্ষে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে তার পরিবার নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয়। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানির সামনে যেমন ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কঠিন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা নিরসনের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তাকে কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে শুধু নিউ ইয়র্কবাসী নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল গভীর নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”