কারাবন্দী অধিকারকর্মীকে লেখা চিঠি ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে তিরস্কার ভারতের
- প্রকাশঃ ০৮:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 32
কারাবন্দী ভারতীয় অধিকারকর্মী উমর খালিদের কাছে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানিকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছে ভারত সরকার। বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের মেয়রের উচিত অন্য দেশের বিষয়ে মন্তব্য না করে নিজের দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। বিবৃতিতে বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের উচিত অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ থেকে বিরত থাকা।
জোহরান মামদানি গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে উমর খালিদের মা–বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁকে একটি চিঠি লেখেন। সে সময় খালিদের মা–বাবা যুক্তরাষ্ট্র সফরে ছিলেন। কয়েক দিন আগে খালিদের পরিবার চিঠিটি প্রকাশ করলে তা এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠিতে মামদানি লিখেছেন, “প্রিয় উমর, আমি প্রায়ই তিক্ততা সম্পর্কে তোমার বলা কথাগুলো মনে করি এবং তিক্ততার গ্রাসে না পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবি। তোমার মা–বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আনন্দিত হয়েছি। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।”
ভারত সরকার মনে করছে, এ ধরনের মন্তব্য ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে অনুচিত ইঙ্গিত বহন করে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এ ধরনের মন্তব্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ (ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম) দাবি করেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সোচ্চার থাকার কারণেই উমর খালিদ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সংস্থাটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি ভারতের আচরণকে ‘অসহিষ্ণু’ উল্লেখ করে দেশটিকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ বা ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে সংঘটিত সহিংস দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে উমর খালিদ বিনা বিচারে কারাবন্দী রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের কড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন আনলফুল অ্যাকটিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট-এর আওতায় মামলা করা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ সময় আটক থাকা ও জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গত সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রাকে চিঠি লিখে উমর খালিদকে জামিন দেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জিম ম্যাকগভার্ন, জেমি রাসকিন, প্রমিলা জয়াপাল, রাশিদা তালিবসহ আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও সিনেটর।
২০২০ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদের সময় নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগই মুসলিম। ওই সহিংসতার পর অন্তত ১৮ জন ছাত্রনেতা ও অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে উমর খালিদ অন্যতম। গত পাঁচ বছরে তাঁর জামিন আবেদন একাধিকবার খারিজ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উমর খালিদকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানালেও ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সে দাবি মানেনি।





























