কানাডায় আশ্রয় আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর
- প্রকাশঃ ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:০৭
- / 11
অটোয়া, ৩ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা): কানাডায় আশ্রয় বা শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার অনলাইন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক দপ্তর। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন শুরু করে রাখা ব্যক্তিদের নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও দেওয়া হয়েছে।
দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যারা ইতোমধ্যে আইআরসিসি পোর্টালে আশ্রয়ের আবেদন শুরু করেছেন, তাদের ২ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়ের মধ্যে আবেদনটি সম্পূর্ণ করে জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পরে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য না চাইলে নতুন করে তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে গেলে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর তাকে নতুন যুক্ত হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে এবং আগে দেওয়া তথ্যও পর্যালোচনা করতে হবে।
সীমান্তে করা আবেদনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার মাধ্যমে সীমান্তে আশ্রয়ের আবেদন শুরু করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য। সীমান্ত কর্মকর্তা অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলে আবেদনকারীকে ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদনটি আইআরসিসি পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনটি পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত না করলে সীমান্ত সেবা সংস্থা আগে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা সংরক্ষিত থাকবে না। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য আবার দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, আবেদনটি পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও ২ নভেম্বরের সময়সীমার মধ্যে জমা না দিলে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর ও আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।
আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি অনলাইননির্ভর হচ্ছে না
নতুন পরিবর্তনের অর্থ কানাডায় আশ্রয়ের আবেদন করার একমাত্র পথ অনলাইন হয়ে যাচ্ছে না। কানাডায় প্রবেশের সময় বিমানবন্দর, স্থলবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে সীমান্ত কর্মকর্তার কাছে সরাসরি আশ্রয়ের আবেদন করা যায়। সীমান্তে আবেদন করার পর কিছু আবেদনকারীকে অনলাইনে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।
কানাডার ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন আইআরসিসি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন করতে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে আইআরসিসির ওয়েব ফর্মের মাধ্যমে সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিল সি-১২-এর অংশ হিসেবে পরিবর্তন
আশ্রয় ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২৬ মার্চ ২০২৬ ‘স্ট্রেংদেনিং কানাডা’স ইমিগ্রেশন সিস্টেম অ্যান্ড বর্ডারস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিল সি-১২ রাজকীয় অনুমোদন পেয়ে আইনে পরিণত হয়। আইনে আশ্রয় আবেদনের কিছু নতুন যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন প্রক্রিয়া আধুনিক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কানাডা সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আধুনিকায়িত ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমানো এবং সম্পূর্ণ তথ্যসহ আবেদনগুলো দ্রুত পরবর্তী প্রক্রিয়ায় পাঠানো।
বিল সি-১২-এর কিছু নতুন যোগ্যতার বিধান ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর কানাডায় প্রথম প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর করা কিছু আশ্রয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় স্থলসীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশের ১৪ দিন পর করা কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন অযোগ্যতার বিধান রয়েছে। এসব নিয়ম ২০২৫ সালের ৩ জুন বা তার পর করা দাবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা
বর্তমানে আইআরসিসি পোর্টালে আশ্রয়ের আবেদন শুরু করে রাখা ব্যক্তিদের ২ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের আগে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। জমা দেওয়ার পর আবেদনসংক্রান্ত নিশ্চিতকরণ তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথির অনুলিপি সংরক্ষণ করাও ভালো।
যারা সীমান্তে আবেদন শুরু করেছেন এবং অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশ পেয়েছেন, তাদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনটি পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করে জমা দিতে হবে। নতুন ব্যবস্থা চালুর পর অসম্পূর্ণ আবেদনকারীদের অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং আগে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।






















