ঢাকা ০৪:৫৫ , Thu, ২৩ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড থাকলেই নিশ্চিন্ত নন, যে ৭ ভুলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন স্থায়ী বাসিন্দারা

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৯
  • / 3
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ধরে রাখতে গ্রিন কার্ডধারীদের অভিবাসন আইন, কর এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানেই স্থায়ীভাবে নিশ্চিন্ত জীবন, এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (USCIS) পরিচালিত অভিবাসন বিধি অনুযায়ী, কিছু ভুল বা নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে স্থায়ী বাসিন্দার (Permanent Resident) মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলা, সঠিকভাবে কর পরিশোধ এবং আইন অনুসরণ করা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে এমন সাতটি বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো সম্পর্কে গ্রিন কার্ডধারীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

১. দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা

গ্রিন কার্ডধারীরা দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করলে তাদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একটানা ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকলে দেশে ফেরার সময় অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এক বছরের বেশি সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই Re-entry Permit নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. ট্যাক্স রিটার্নে নিজেকে Non-Resident হিসেবে দেখানো

গ্রিন কার্ডধারীদের সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কর আইনের আওতায় Resident হিসেবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে Form 1040NR ব্যবহার করে নিজেকে Non-Resident হিসেবে দেখালে ভবিষ্যতে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৩. নাগরিক না হয়েও ভোট দেওয়া

গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নন। ভুলবশত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা বা ভোট দেওয়া গুরুতর আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. ফৌজদারি অপরাধে জড়ানো

চুরি, জালিয়াতি, গার্হস্থ্য সহিংসতা, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়ালে অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে বহিষ্কার (Removal Proceedings) প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

৫. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য USCIS-কে না জানানো

বাসা পরিবর্তনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Form AR-11 এর মাধ্যমে USCIS-কে নতুন ঠিকানা জানানো আইনগত বাধ্যবাধকতার অংশ। ঠিকানা হালনাগাদ না করলে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বা সাক্ষাৎকারের চিঠি না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৬. মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ড নবায়ন না করা

স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বহাল থাকলেও অধিকাংশ গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে Form I-90 এর মাধ্যমে কার্ড নবায়ন করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড নিয়ে ভ্রমণ বা চাকরির নথি যাচাইয়ের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

৭. সরকারি সুবিধা ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলা

সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করার সময় আয়, সরকারি সুবিধা এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে ভবিষ্যতের আবেদন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গ্রিন কার্ডধারীদের প্রতি বছর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিল করা, দীর্ঘ সময় বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব আইন মেনে চলা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো USCIS-কে জানানো এবং গ্রিন কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করা উচিত। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। সেই সুযোগ ধরে রাখতে অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড থাকলেই নিশ্চিন্ত নন, যে ৭ ভুলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন স্থায়ী বাসিন্দারা

প্রকাশঃ ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানেই স্থায়ীভাবে নিশ্চিন্ত জীবন, এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (USCIS) পরিচালিত অভিবাসন বিধি অনুযায়ী, কিছু ভুল বা নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে স্থায়ী বাসিন্দার (Permanent Resident) মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলা, সঠিকভাবে কর পরিশোধ এবং আইন অনুসরণ করা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে এমন সাতটি বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো সম্পর্কে গ্রিন কার্ডধারীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

১. দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা

গ্রিন কার্ডধারীরা দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করলে তাদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একটানা ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকলে দেশে ফেরার সময় অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এক বছরের বেশি সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই Re-entry Permit নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. ট্যাক্স রিটার্নে নিজেকে Non-Resident হিসেবে দেখানো

গ্রিন কার্ডধারীদের সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কর আইনের আওতায় Resident হিসেবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে Form 1040NR ব্যবহার করে নিজেকে Non-Resident হিসেবে দেখালে ভবিষ্যতে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৩. নাগরিক না হয়েও ভোট দেওয়া

গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নন। ভুলবশত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা বা ভোট দেওয়া গুরুতর আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. ফৌজদারি অপরাধে জড়ানো

চুরি, জালিয়াতি, গার্হস্থ্য সহিংসতা, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়ালে অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে বহিষ্কার (Removal Proceedings) প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

৫. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য USCIS-কে না জানানো

বাসা পরিবর্তনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Form AR-11 এর মাধ্যমে USCIS-কে নতুন ঠিকানা জানানো আইনগত বাধ্যবাধকতার অংশ। ঠিকানা হালনাগাদ না করলে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বা সাক্ষাৎকারের চিঠি না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৬. মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ড নবায়ন না করা

স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বহাল থাকলেও অধিকাংশ গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে Form I-90 এর মাধ্যমে কার্ড নবায়ন করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড নিয়ে ভ্রমণ বা চাকরির নথি যাচাইয়ের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

৭. সরকারি সুবিধা ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলা

সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করার সময় আয়, সরকারি সুবিধা এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে ভবিষ্যতের আবেদন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গ্রিন কার্ডধারীদের প্রতি বছর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিল করা, দীর্ঘ সময় বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব আইন মেনে চলা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো USCIS-কে জানানো এবং গ্রিন কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করা উচিত। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। সেই সুযোগ ধরে রাখতে অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।