ক্যারিয়ারে বাড়তি গুরুত্ব, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শতাংশ নারী অবিবাহিত থাকতে
- প্রকাশঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৬
- / 5
নিউইয়র্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অবিবাহিত থাকার প্রবণতা আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। মরগ্যান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বয়সী নারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ অবিবাহিত থাকতে পারেন। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ৪১ শতাংশ।
মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষণায় বলা হয়েছে, নারীদের বিয়ে দেরিতে করা, অবিবাহিত থাকা এবং বিচ্ছেদের পর পুনরায় বিয়ে না করার প্রবণতা এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে অনেক নারী সন্তান নেওয়ার সময় পিছিয়ে দিচ্ছেন অথবা আগের তুলনায় কম সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
গবেষণাটি বলছে, এই পরিবর্তনকে কেবল পারিবারিক জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এর বড় একটি অর্থনৈতিক দিক বাদ পড়ে যায়। অবিবাহিত নারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, আয়, ভোগব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভূমিকা আরও বাড়তে পারে বলে মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
আগের প্রজন্মের তুলনায় বিয়ের বয়স বাড়ছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, পেশাগত উন্নতি এবং আর্থিক স্বাধীনতা নারীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিয়ে দেরিতে করা বা অবিবাহিত থাকার ফলে অনেক নারী নিজেদের কর্মজীবন ও আর্থিক অবস্থান গড়ে তোলার জন্য বেশি সময় পাচ্ছেন।
সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নারীরা সন্তান নেওয়ার আগে কর্মজীবন, আয়, পরিবার পরিচালনা এবং শিশুর যত্নের ব্যয় নিয়ে বেশি হিসাব করছেন। সন্তান পালনের দায়িত্বের সঙ্গে পেশাগত জীবনের ভারসাম্য কীভাবে রাখা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পরিণত হয়েছে।
মরগ্যান স্ট্যানলির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ এলেন জেন্টনারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিয়ে দেরিতে করা, জন্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগ বৃদ্ধি, কম সন্তান নেওয়া এবং পরে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা নারীদের আয় ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অবিবাহিত নারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাঁদের অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষণায় বলা হয়েছে, অবিবাহিত নারীরা কর্মজীবনে বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকার সুযোগ পাওয়ায় তাঁদের আয় ও ভোগব্যয় বাড়তে পারে।
গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা প্রতিবছর প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উৎপাদনে অবদান রাখেন এবং প্রায় ৩০ শতাংশ বিবাহিত পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। মোট পরিবারের হিসাবে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
অবিবাহিত নারীদের সংখ্যা বাড়লে পোশাক, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, বাইরে খাবার খাওয়া, গাড়ি এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মরগ্যান স্ট্যানলি মনে করে।
বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সময় পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকলে কর্মক্ষেত্রে শিশু যত্ন, নমনীয় কর্মঘণ্টা এবং নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
কারণ সন্তান জন্মের পর অনেক নারী কর্মজীবনে বিরতি নেন অথবা কাজের সময় কমিয়ে দেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের আয় ও ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষণে মাতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের নারী-পুরুষের আয় বৈষম্যের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ২০৩০ সালের পূর্বাভাসকে নারীদের বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের বৈবাহিক অবস্থার একটি জনমিতিক পূর্বাভাস। গবেষণায় ৪৫ শতাংশ নারী একই সময়ে অবিবাহিত ও নিঃসন্তান থাকবেন এমন কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
নারীদের জীবনযাত্রার এই পরিবর্তন তাই পারিবারিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শ্রমবাজার, ভোগব্যয়, আয় এবং অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

























