যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ডলারের ওপিটি ফি প্রস্তাব, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ
- প্রকাশঃ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১
- / 7
ওয়াশিংটন, ১৪ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্ভাব্য খরচ বড় আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা পার করেছে। তবে সম্ভাব্য ১ লাখ ডলারের ফি এখনো সরকারি নথিতে নিশ্চিত হয়নি এবং এটি কার্যকরও হয়নি।
ওপিটি হলো এমন একটি কর্মসূচি, যার আওতায় যোগ্য এফ-১ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। সাধারণভাবে পড়াশোনা শেষ করার পর সর্বোচ্চ ১২ মাস কাজের অনুমতি পাওয়া যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা যোগ্য শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের সুবিধা পেতে পারেন। এতে মোট তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে এইচ-১বি ভিসার মতো কর্মভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় যাওয়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন।
ব্লুমবার্গ ল-এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রায় ৩ লাখ এফ-১ শিক্ষার্থীর ওপিটির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের অনুমতি ছিল।
১ লাখ ডলারের ফি কি শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে?
এখনো তা স্পষ্ট নয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রস্তাবের প্রকাশ্য নথিতে সম্ভাব্য ফির পরিমাণ কিংবা শেষ পর্যন্ত কার ওপর এই ফি দেওয়ার দায়িত্ব পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নীতি বিষয়ক ভাষ্যকার স্যাম পিকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই ফি বহন করতে হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো শিক্ষার্থীর নিয়োগকর্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কেন এত বড় অঙ্কের ফি দেবে।
তবে ১ লাখ ডলারের অঙ্কটি কোথা থেকে এসেছে এবং চূড়ান্ত প্রস্তাবে সেটিই থাকবে কি না, তা সরকারি নথি থেকে এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মানেই ১ লাখ ডলারের ফি অনুমোদিত হয়ে যাওয়া নয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য ওপিটির সুযোগ নেন। অনেকের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
ফলে বড় অঙ্কের কোনো ওপিটি ফি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য খরচের হিসাবেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য ফি, কে সেটি পরিশোধ করবেন এবং কোন ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ওপিটি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ভবিষ্যতে কর্মভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে এইচ-১বি ভিসার পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তাই সম্ভাব্য বড় অঙ্কের ফি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তা, তিন পক্ষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রকৃত আর্থিক প্রভাব এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ প্রস্তাবিত ফির পরিমাণ, কারা ফি দেবেন, কোনো ছাড় থাকবে কি না এবং কোন ধরনের ওপিটি আবেদন এর আওতায় পড়বে, এসব তথ্য এখনো সরকারি প্রস্তাবে প্রকাশ্যে আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তাদের নিয়েও আশঙ্কা
ভারতীয়-আমেরিকান অ্যাডভোকেসি কাউন্সিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যদি বড় অঙ্কের এই ফি দিতে হয়, তাহলে তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি কমিয়ে দিতে পারে।
তার ভাষ্য, এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের টিউশন, মেধা ও গবেষণার সুযোগ অন্য দেশে নিয়ে যেতে পারেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হওয়া দক্ষ কর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারাতে পারেন।
সিদ্ধার্থ আরও বলেন, এমন নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ থেকে পড়াশোনা শেষে বড় আর্থিক দায়ে পরিণত করতে পারে। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ। সেখানে সম্ভাব্য ফির পরিমাণ, কারা এর আওতায় পড়বেন, ফি কে পরিশোধ করবেন, কোনো ছাড় থাকবে কি না এবং প্রস্তাবটি কখন থেকে কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা।
প্রস্তাব প্রকাশের পর শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব মতামত বিবেচনা করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে।
অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটিকে নতুন ওপিটি ফি কার্যকর হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে, ১ লাখ ডলারের ফি এখনই শিক্ষার্থী বা তাদের নিয়োগকর্তাদের পরিশোধ করতে হবে এমন কোনো সরকারি নির্দেশনাও প্রকাশিত হয়নি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য তাই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে প্রস্তাবটির ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ এবং সেখানে ফির প্রকৃত পরিমাণ ও প্রযোজ্যতার শর্ত প্রকাশ পাওয়া।





























