ঢাকা ০৯:১৬ , Wed, ০২ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

কানাডার পার্লামেন্টে এমপি হলেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১
  • / 3
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ ফাইল ছবি

টরন্টো, ২ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানাডার হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেক হলো।

তানভীর শাহনেওয়াজ বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনে লিবারেল পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির শ্যানন ডিভাইন ও কনজারভেটিভ পার্টির জিম সিরবস। নির্বাচনে তানভীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে এই আসনের এমপি ছিলেন নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথ। তিনি পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয় এবং সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে আসনটি লিবারেল পার্টির দখলে ছিল। তানভীরের জয় সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল।

স্থানীয় রাজনীতি থেকে পার্লামেন্টে

তানভীর শাহনেওয়াজ টরন্টোর ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন। একই এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কারবরো ক্যাম্পাস থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি প্রায় এক দশক নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেন।

এরস্কিন-স্মিথের কার্যালয়ে তানভীর প্রথমে বিভিন্ন স্থানীয় ও সরকারি সেবা নিয়ে বাসিন্দাদের সহায়তা করার কাজে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরস্কিন-স্মিথ আবাসনমন্ত্রী থাকাকালে তানভীর তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার কারণে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। ক্রিসেন্ট টাউন, টেলর-ম্যাসি ও ওকরিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

তানভীরের নির্বাচিত হওয়া কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তানভীরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টরন্টোর বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হলো। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজ থেকে ফেডারেল পার্লামেন্টে পৌঁছানোর এই পথ কানাডার অভিবাসী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি সোমবার অনুষ্ঠিত তিনটি ফেডারেল উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছে। বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক ছাড়াও কুইবেকের শিকুতিমি-লে-ফিয়র্ড এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নর্থ ভ্যাঙ্কুভার-ক্যাপিলানো আসনেও লিবারেল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

❤️
👏
🙂
😞

কানাডার পার্লামেন্টে এমপি হলেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ

প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১

টরন্টো, ২ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানাডার হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেক হলো।

তানভীর শাহনেওয়াজ বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনে লিবারেল পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির শ্যানন ডিভাইন ও কনজারভেটিভ পার্টির জিম সিরবস। নির্বাচনে তানভীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে এই আসনের এমপি ছিলেন নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথ। তিনি পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয় এবং সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে আসনটি লিবারেল পার্টির দখলে ছিল। তানভীরের জয় সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল।

স্থানীয় রাজনীতি থেকে পার্লামেন্টে

তানভীর শাহনেওয়াজ টরন্টোর ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন। একই এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কারবরো ক্যাম্পাস থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি প্রায় এক দশক নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেন।

এরস্কিন-স্মিথের কার্যালয়ে তানভীর প্রথমে বিভিন্ন স্থানীয় ও সরকারি সেবা নিয়ে বাসিন্দাদের সহায়তা করার কাজে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরস্কিন-স্মিথ আবাসনমন্ত্রী থাকাকালে তানভীর তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার কারণে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। ক্রিসেন্ট টাউন, টেলর-ম্যাসি ও ওকরিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

তানভীরের নির্বাচিত হওয়া কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তানভীরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টরন্টোর বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হলো। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজ থেকে ফেডারেল পার্লামেন্টে পৌঁছানোর এই পথ কানাডার অভিবাসী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি সোমবার অনুষ্ঠিত তিনটি ফেডারেল উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছে। বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক ছাড়াও কুইবেকের শিকুতিমি-লে-ফিয়র্ড এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নর্থ ভ্যাঙ্কুভার-ক্যাপিলানো আসনেও লিবারেল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।