যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নাগরিকত্বে নতুন শর্ত, বাবা-মাকে দিতে হবে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন নথি
- প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭
- / 1
ওয়াশিংটন, ২ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করতে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় বাবা-মাকেও নিজেদের নাগরিকত্ব অথবা অভিবাসন মর্যাদার প্রমাণ জমা দিতে হবে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা খসড়া নীতিমালায় প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে, কীভাবে ট্রাম্পের ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারে পররাষ্ট্র দপ্তর।
ট্রাম্পের ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর আওতায় গর্ভবতী নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান কিছু ব্যতিক্রমের পরিধিও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন এই নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মর্যাদা রক্ষা করবে। এর অংশ হিসেবে আমাদের পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও যাতে এই মানদণ্ড পুরোপুরি প্রতিফলিত করে, তা নিশ্চিত করা হবে।’
অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এর আগে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল সেই শিশুদের দেওয়া হবে, যাদের বাবা অথবা মায়ের অন্তত একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কিংবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ওই আদেশকে বেআইনি ঘোষণা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা মনে করেন, আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নতুন প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিশু ট্রাম্পের ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ে কি না, তা নির্ধারণের জন্য পাসপোর্ট আবেদনকারীর বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাঁদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদার প্রমাণ চাইবে পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং অভিবাসন মর্যাদার প্রমাণ হিসেবে আই-৯৪ ফর্ম বা বৈধ স্থায়ী বসবাসের কার্ড জমা দিতে হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না। নতুন নির্দেশনার আওতায় কিছু নির্দিষ্ট শিশুর নাগরিকত্ব আটকে দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন শিশুরা, যাদের বাবা বা মায়ের কেউ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি বা কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, অথবা যাদের ‘এলিয়েন এনিমি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করার সময় বাবা-মাকে মূলত সন্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের প্রমাণ এবং ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কি না, সেটিও উল্লেখ করতে হয়। তবে সেই নাগরিকত্বের পক্ষে আলাদা প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বর্তমানে নেই।
ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশের কারণে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে এমন শিশুদের পক্ষে পরিচালিত শ্রেণিভিত্তিক মামলার আইনজীবীরা এরই মধ্যে নতুন আদেশ কার্যকর ঠেকাতে দুই ভিন্ন ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগটি প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।














