আমেরিকায় ভালো বাড়ি কেনার আগে যে ৫ বিষয় জানা প্রয়োজন
- প্রকাশঃ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪১
- / 4
যুক্তরাষ্ট্র, ৩ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর অনেকদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দম্পতি। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অবশেষে পছন্দ হলো একটি বাড়ি। বাড়িটি দেখতে সুন্দর, ঘর বড়, পেছনে উঠানও আছে। দামও তাদের বাজেটের মধ্যে। সবকিছু মিলিয়ে বাড়িটিকে প্রথম দেখাতেই পছন্দ হয়ে গেল। কিন্তু অফার দেওয়ার আগে এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁদের একটি প্রশ্ন করলেন, ‘বাড়িটা ভালো, কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার সন্তানের স্কুল কোথায়? অফিস যেতে প্রতিদিন কত সময় লাগবে? সম্পত্তি কর ও বাড়ির মালিকদের সংগঠনের ফি কত? আর বাড়িটি বন্যার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে কি না?’
প্রশ্নগুলো শুনে তাঁরা আরও খোঁজ নিলেন। তখন বুঝতে পারলেন, বাড়ির ভেতরটা যতটা আকর্ষণীয়, আশপাশের সবকিছু ততটা সুবিধাজনক নয়। স্কুলের মান প্রত্যাশার মতো নয়, কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং বাড়ির সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত খরচও প্রথম দেখায় বোঝা যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা বাড়িটি না কেনার সিদ্ধান্ত নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক নতুন ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। কারণ এখানে বাড়ি কেনা মানে শুধু চারটি দেয়াল কেনা নয়, একই সঙ্গে একটি এলাকা, সেই এলাকার জীবনযাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি খরচের দায়িত্ব নেওয়া। তাই বাড়ি যত সুন্দরই হোক, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত পাঁচটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
১. স্কুল এলাকার মান
সন্তান থাকলে বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুলের মান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলের মান অনেক ক্ষেত্রে একটি এলাকার বাড়ির চাহিদা ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের রেটিং ও তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। এর জন্য গ্রেটস্কুলসের মতো ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। তবে একটি নির্দিষ্ট রেটিংকে একমাত্র সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করে স্কুলের বিভিন্ন তথ্য, এলাকার অন্যান্য স্কুল এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখা ভালো।
২. চাকরির সুযোগ ও কর্মস্থলের দূরত্ব
বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেই সেটি লাভজনক সিদ্ধান্ত হবে, এমনটা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বাড়ি থেকে কর্মস্থল বা সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের কেন্দ্রগুলো কত দূরে, সেটিও হিসাব করা দরকার। বিশেষ করে বড় গুদাম, হাসপাতাল, কারখানা, অফিস ও অন্যান্য কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের যাতায়াতের মধ্যে আছে কি না, তা দেখা যেতে পারে। মিসৌরির কানসাস সিটি কিংবা টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওর মতো এলাকায় বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে স্থানীয় চাকরির বাজারও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
৩. প্রতিদিনের যাতায়াতের সময়
বাড়ি কেনার সময় যাতায়াতের সময়কে অনেক ক্রেতাই গুরুত্ব কম দেন। অথচ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হলে সময়, জ্বালানি ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়তে পারে। প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি যাতায়াত হলে বছরে কয়েকশ ঘণ্টা রাস্তায় ব্যয় হতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময়, যানজটের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খরচ হিসাব করে দেখা উচিত। একই সঙ্গে সপ্তাহে কত দিন অফিসে যেতে হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
৪. সম্পত্তি কর ও বাড়ির মালিকদের সংগঠনের ফি
বাড়ির মাসিক ঋণের কিস্তি দেখেই মোট খরচ হিসাব করা ঠিক নয়। সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা এবং বাড়ির মালিকদের সংগঠনের মাসিক বা বার্ষিক ফিও নিয়মিত ব্যয়ের অংশ। অনেক এলাকায় বাড়ির ধরন ও কমিউনিটির সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী মাসে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত এই ফি হতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বর্তমান সম্পত্তি কর, বীমার খরচ এবং বাড়ির মালিকদের সংগঠনের ফি কত, ভবিষ্যতে তা বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
৫. নিরাপত্তা ও বন্যার ঝুঁকি
বাড়ির আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও আগে যাচাই করা জরুরি। অপরাধের তথ্য জানতে ক্রাইমম্যাপিংয়ের মতো সেবা এবং বন্যার ঝুঁকি যাচাই করতে ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার বন্যা মানচিত্র দেখা যেতে পারে। কোনো বাড়ি বন্যাপ্রবণ এলাকায় পড়লে বাড়ির বীমার খরচ বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ এলাকা, বাড়ির অবস্থান, বীমার ধরন ও ঝুঁকির মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
বাড়ি পছন্দ হওয়ার পর দ্রুত অফার দেওয়ার আগে তাই অন্তত এক থেকে দুই দিন সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুল, কর্মসংস্থান, যাতায়াত, সম্পত্তি কর, বাড়ির মালিকদের সংগঠনের ফি, নিরাপত্তা ও বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা ভালো। কারণ বাড়ির সৌন্দর্য চোখে পড়ে প্রথমে, কিন্তু বাড়িটি আপনার পরিবারের জন্য কতটা উপযোগী, তা বোঝা যায় আশপাশের পুরো পরিস্থিতি যাচাই করার পর।




















