ঢাকা ০৮:৫৭ , Fri, ১১ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সুখী রাজ্যের তালিকায় নিউ জার্সির চমক, নিউইয়র্ক ১৬তম

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৭
  • / 8
যুক্তরাষ্ট্রের সুখী রাজ্যের তালিকায় শীর্ষে হাওয়াই, চতুর্থ নিউ জার্সি এবং ১৬তম নিউইয়র্ক ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী রাজ্যের তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছে হাওয়াই। তবে তালিকায় বড় চমক দিয়েছে নিউ জার্সি। নিউইয়র্কের পাশের এই রাজ্যটি সামগ্রিক সুখের বিচারে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে। বিপরীতে নিউইয়র্ক রয়েছে ১৬তম স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যকে ৩০টি সূচকে বিচার করে এই তালিকা তৈরি করেছে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।

সুখের এই হিসাব করতে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষণ্নতার হার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মঘণ্টা, আয় বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, জীবন প্রত্যাশা, পর্যাপ্ত ঘুম, বিবাহবিচ্ছেদের হার, আত্মহত্যার হার এবং সামাজিক সম্পর্কের মতো ৩০টি সূচক এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তালিকার শীর্ষে থাকা হাওয়াইয়ের মোট স্কোর ৬৫ দশমিক ৫০। রাজ্যটির বাসিন্দারা জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন। দেশটির মধ্যে হাওয়াইয়ের মানুষের জীবন প্রত্যাশাও সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সক্রিয় ও উৎপাদনশীল থাকার কথা জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও হাওয়াইয়ের অবস্থান শক্ত করেছে। রাজ্যটিতে বেকারত্বের হার দেশের অন্যতম কম এবং ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা পরিবারের হারও বেশ উঁচু। এসব কারণে আর্থিক অনিশ্চয়তার চাপ তুলনামূলক কম।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ড। এই রাজ্যের মোট স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩। তৃতীয় নেব্রাস্কা, চতুর্থ নিউ জার্সি এবং পঞ্চম কানেকটিকাট। এরপর ষষ্ঠ উটাহ, সপ্তম ক্যালিফোর্নিয়া, অষ্টম নিউ হ্যাম্পশায়ার, নবম ম্যাসাচুসেটস এবং দশম আইডাহো।

নিউ জার্সির অবস্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। রাজ্যটি দেশের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হার সবচেয়ে কম এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের হারও দেশের অন্যতম কম। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিউ জার্সির বাসিন্দারা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আত্মহত্যার হারও এখানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক ১৬তম অবস্থানে থাকলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সূচকে পঞ্চম এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার কম হারের দিক থেকে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে কর্মপরিবেশ ও সামাজিক-পরিবেশগত সূচকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।

উটাহ তৃতীয় না হলেও ষষ্ঠ অবস্থানে থেকে আলাদা করে নজর কেড়েছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক-পরিবেশগত সূচকে ভালো ফলের কারণে। আইডাহো রয়েছে দশম স্থানে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে কর্মপরিবেশের সূচকে উটাহ প্রথম এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতেও প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, সুখের সঙ্গে পর্যাপ্ত অর্থের সম্পর্ক থাকলেও অতিরিক্ত অর্থই সবকিছু নয়। আর্থিক স্বচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি ভালো সম্পর্ক, নিজের পছন্দের কাজ, অবসর এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও মানুষের জীবন সন্তুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেদনটি আরও দেখায়, সুখকে একটি মাত্র বিষয় দিয়ে মাপা যায় না। স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাপনের সুযোগ একসঙ্গে মানুষের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রের সুখী রাজ্যের তালিকায় নিউ জার্সির চমক, নিউইয়র্ক ১৬তম

প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৭

নিউইয়র্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী রাজ্যের তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছে হাওয়াই। তবে তালিকায় বড় চমক দিয়েছে নিউ জার্সি। নিউইয়র্কের পাশের এই রাজ্যটি সামগ্রিক সুখের বিচারে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে। বিপরীতে নিউইয়র্ক রয়েছে ১৬তম স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যকে ৩০টি সূচকে বিচার করে এই তালিকা তৈরি করেছে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।

সুখের এই হিসাব করতে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষণ্নতার হার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মঘণ্টা, আয় বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, জীবন প্রত্যাশা, পর্যাপ্ত ঘুম, বিবাহবিচ্ছেদের হার, আত্মহত্যার হার এবং সামাজিক সম্পর্কের মতো ৩০টি সূচক এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তালিকার শীর্ষে থাকা হাওয়াইয়ের মোট স্কোর ৬৫ দশমিক ৫০। রাজ্যটির বাসিন্দারা জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন। দেশটির মধ্যে হাওয়াইয়ের মানুষের জীবন প্রত্যাশাও সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সক্রিয় ও উৎপাদনশীল থাকার কথা জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও হাওয়াইয়ের অবস্থান শক্ত করেছে। রাজ্যটিতে বেকারত্বের হার দেশের অন্যতম কম এবং ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা পরিবারের হারও বেশ উঁচু। এসব কারণে আর্থিক অনিশ্চয়তার চাপ তুলনামূলক কম।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ড। এই রাজ্যের মোট স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩। তৃতীয় নেব্রাস্কা, চতুর্থ নিউ জার্সি এবং পঞ্চম কানেকটিকাট। এরপর ষষ্ঠ উটাহ, সপ্তম ক্যালিফোর্নিয়া, অষ্টম নিউ হ্যাম্পশায়ার, নবম ম্যাসাচুসেটস এবং দশম আইডাহো।

নিউ জার্সির অবস্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। রাজ্যটি দেশের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হার সবচেয়ে কম এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের হারও দেশের অন্যতম কম। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিউ জার্সির বাসিন্দারা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আত্মহত্যার হারও এখানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক ১৬তম অবস্থানে থাকলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সূচকে পঞ্চম এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার কম হারের দিক থেকে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে কর্মপরিবেশ ও সামাজিক-পরিবেশগত সূচকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।

উটাহ তৃতীয় না হলেও ষষ্ঠ অবস্থানে থেকে আলাদা করে নজর কেড়েছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক-পরিবেশগত সূচকে ভালো ফলের কারণে। আইডাহো রয়েছে দশম স্থানে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে কর্মপরিবেশের সূচকে উটাহ প্রথম এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতেও প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, সুখের সঙ্গে পর্যাপ্ত অর্থের সম্পর্ক থাকলেও অতিরিক্ত অর্থই সবকিছু নয়। আর্থিক স্বচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি ভালো সম্পর্ক, নিজের পছন্দের কাজ, অবসর এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও মানুষের জীবন সন্তুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেদনটি আরও দেখায়, সুখকে একটি মাত্র বিষয় দিয়ে মাপা যায় না। স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাপনের সুযোগ একসঙ্গে মানুষের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলে।