ঢাকা ০৭:৫৯ , Wed, ০৯ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসীদের চাকরি খোঁজার আগে যে ৬ শহর বিবেচনায় রাখতে পারেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪২
  • / 4
সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বড় মেট্রো এলাকাগুলোর বেকারত্বের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অভিবাসী বা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, কোন শহরে তুলনামূলক ভালো চাকরির সুযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি মেট্রো এলাকার তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল, ক্লিভল্যান্ড, আটলান্টা, কলম্বাস, র‍্যালি ও ইন্ডিয়ানাপলিসে বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম। তবে কোনো শহরের বেকারত্ব কম হলেই সেখানে সবার জন্য চাকরি পাওয়া সহজ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ প্রকাশিত মেট্রো এলাকার হিসাবে, ১০ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার ৫৬টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে হনলুলুতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম ছিল, ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর ন্যাশভিল ৩ শতাংশ, ক্লিভল্যান্ড ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং আটলান্টা, কলম্বাস ও র‍্যালি ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ইন্ডিয়ানাপলিসে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। শার্লট ও মিয়ামিতে বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিক থেকেও কয়েকটি শহর এগিয়ে আছে। জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১০ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে র‍্যালি-ক্যারিতে অ-কৃষি কর্মসংস্থান ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে বড় মেট্রো এলাকাগুলোর মধ্যে র‍্যালির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল অন্যতম বেশি। ন্যাশভিলে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে ৫৪ হাজার এবং হিউস্টন-পাসাডেনা-দ্য উডল্যান্ডসে ৫০ হাজার ৩০০টি অ-কৃষি চাকরি বেড়েছে।

কলম্বাসের শ্রমবাজারেও পরিবর্তন দেখা গেছে। জুলাই ২০২৫-এর তুলনায় জুলাই ২০২৬-এ বড় মেট্রো এলাকাগুলোর মধ্যে কলম্বাসের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে শহরভিত্তিক চাকরির সুযোগ বিচার করার সময় শুধু বেকারত্বের হার নয়, মোট কর্মসংস্থান কতটা বাড়ছে এবং কোন খাতে নিয়োগ হচ্ছে, সেটিও দেখা জরুরি।

অন্যদিকে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও হিউস্টনের মতো বড় শ্রমবাজারে মোট চাকরির সুযোগ অনেক। জুলাইয়ে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে বেকারত্ব ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং হিউস্টনে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তারপরও এক বছরে এই দুই এলাকায় যথাক্রমে ৫৪ হাজার ও ৫০ হাজার ৩০০টি অ-কৃষি চাকরি বেড়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক বেশি বেকারত্বের হার থাকলেও বড় শ্রমবাজার হিসেবে এসব শহরে চাকরির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

নতুন অভিবাসীদের জন্য তাই ‘কোন শহরে সহজে চাকরি পাওয়া যায়’ প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন। কাজের অনুমতি, ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, আগের কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সুযোগ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। রেস্টুরেন্ট, গুদাম, পরিবহন বা পরিচর্যা খাতে কাজ খোঁজা একজনের জন্য যে শহর সুবিধাজনক হতে পারে, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা বা প্রকৌশল পেশাজীবীর জন্য একই শহর সমান উপযোগী নাও হতে পারে।

শহর বাছাইয়ের সময় তাই নিজের পেশায় চাকরির চাহিদা, সম্ভাব্য বেতন, বাসাভাড়া, কর, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং গাড়ির প্রয়োজনীয়তা একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ন্যাশভিল, ক্লিভল্যান্ড, আটলান্টা, কলম্বাস, র‍্যালি ও ইন্ডিয়ানাপলিস তুলনামূলক কম বেকারত্বের বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে রয়েছে। তবে আগস্ট ২০২৬-এর মেট্রো এলাকার নতুন তথ্য ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার পর এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসীদের চাকরি খোঁজার আগে যে ৬ শহর বিবেচনায় রাখতে পারেন

প্রকাশঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪২

ওয়াশিংটন, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অভিবাসী বা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, কোন শহরে তুলনামূলক ভালো চাকরির সুযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি মেট্রো এলাকার তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল, ক্লিভল্যান্ড, আটলান্টা, কলম্বাস, র‍্যালি ও ইন্ডিয়ানাপলিসে বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম। তবে কোনো শহরের বেকারত্ব কম হলেই সেখানে সবার জন্য চাকরি পাওয়া সহজ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ প্রকাশিত মেট্রো এলাকার হিসাবে, ১০ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার ৫৬টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে হনলুলুতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম ছিল, ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর ন্যাশভিল ৩ শতাংশ, ক্লিভল্যান্ড ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং আটলান্টা, কলম্বাস ও র‍্যালি ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ইন্ডিয়ানাপলিসে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। শার্লট ও মিয়ামিতে বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিক থেকেও কয়েকটি শহর এগিয়ে আছে। জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১০ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে র‍্যালি-ক্যারিতে অ-কৃষি কর্মসংস্থান ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে বড় মেট্রো এলাকাগুলোর মধ্যে র‍্যালির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল অন্যতম বেশি। ন্যাশভিলে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে ৫৪ হাজার এবং হিউস্টন-পাসাডেনা-দ্য উডল্যান্ডসে ৫০ হাজার ৩০০টি অ-কৃষি চাকরি বেড়েছে।

কলম্বাসের শ্রমবাজারেও পরিবর্তন দেখা গেছে। জুলাই ২০২৫-এর তুলনায় জুলাই ২০২৬-এ বড় মেট্রো এলাকাগুলোর মধ্যে কলম্বাসের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে শহরভিত্তিক চাকরির সুযোগ বিচার করার সময় শুধু বেকারত্বের হার নয়, মোট কর্মসংস্থান কতটা বাড়ছে এবং কোন খাতে নিয়োগ হচ্ছে, সেটিও দেখা জরুরি।

অন্যদিকে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও হিউস্টনের মতো বড় শ্রমবাজারে মোট চাকরির সুযোগ অনেক। জুলাইয়ে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে বেকারত্ব ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং হিউস্টনে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তারপরও এক বছরে এই দুই এলাকায় যথাক্রমে ৫৪ হাজার ও ৫০ হাজার ৩০০টি অ-কৃষি চাকরি বেড়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক বেশি বেকারত্বের হার থাকলেও বড় শ্রমবাজার হিসেবে এসব শহরে চাকরির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

নতুন অভিবাসীদের জন্য তাই ‘কোন শহরে সহজে চাকরি পাওয়া যায়’ প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন। কাজের অনুমতি, ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, আগের কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সুযোগ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। রেস্টুরেন্ট, গুদাম, পরিবহন বা পরিচর্যা খাতে কাজ খোঁজা একজনের জন্য যে শহর সুবিধাজনক হতে পারে, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা বা প্রকৌশল পেশাজীবীর জন্য একই শহর সমান উপযোগী নাও হতে পারে।

শহর বাছাইয়ের সময় তাই নিজের পেশায় চাকরির চাহিদা, সম্ভাব্য বেতন, বাসাভাড়া, কর, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং গাড়ির প্রয়োজনীয়তা একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ন্যাশভিল, ক্লিভল্যান্ড, আটলান্টা, কলম্বাস, র‍্যালি ও ইন্ডিয়ানাপলিস তুলনামূলক কম বেকারত্বের বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে রয়েছে। তবে আগস্ট ২০২৬-এর মেট্রো এলাকার নতুন তথ্য ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার পর এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।