ঢাকা ১০:৩৪ , Fri, ১১ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে ৫ কোম্পানি নিষিদ্ধ, তালিকায় নতুন ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান, কর্মীদের ভিসায় কী প্রভাব পড়বে

সুবোধ রহমান নিউইয়র্ক
  • প্রকাশঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৩
  • / 11
এইচ-১বি কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১১ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে পাঁচটি কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সর্বশেষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনকরপোরেটেড, শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনকরপোরেটেড এবং ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড।

শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এইচ-১বি কর্মসূচির শ্রম ও বিধিবদ্ধ শর্ত লঙ্ঘনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বকেয়া মজুরি পরিশোধ, আর্থিক জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

শ্রম বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, গোয়ারাটেকের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে ২০২৫ সালের ১২ মে থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত। রেনোটেক গ্রুপ নিষিদ্ধ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত।

সিলোজের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ এবং চলবে ২০২৮ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। শেরউড একাডেমির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ২৫ মে পর্যন্ত।

ডেইন ভিঞ্চি একাডেমির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে এবং তা চলবে ২০২৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত।

শ্রম বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর অর্থ হলো, এইচ-১বি কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও বিধি মেনে চলার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কোনো নিয়োগকর্তা এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ হলেই সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নিষেধাজ্ঞার মূল প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি নতুন এইচ-১বি কর্মী স্পনসর বা সংশ্লিষ্ট আবেদন করতে পারে না। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ভিসা নবায়ন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন বা দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে শুধু কোম্পানিটি নিষিদ্ধ হয়েছে কি না, সেটি দেখলেই তাঁর অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্মীর এইচ-১বি অবস্থান, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরবর্তী অভিবাসন পদক্ষেপ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

এই তালিকা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বা চাকরি খুঁজছেন এমন বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ ও স্পনসর করতে পারছে কি না, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ইতিহাস থাকলেই বর্তমান অবস্থাও একই থাকবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়োগকর্তার বর্তমান যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট চাকরির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়া যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও যোগ্যতার নিয়ম আলাদা। ফেডারেল সরকারের অনেক পদে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে। তাই সরকারি বা বেসরকারি চাকরি, উভয় ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পদের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে ৫ কোম্পানি নিষিদ্ধ, তালিকায় নতুন ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান, কর্মীদের ভিসায় কী প্রভাব পড়বে

প্রকাশঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৩

ওয়াশিংটন, ১১ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে পাঁচটি কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সর্বশেষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনকরপোরেটেড, শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনকরপোরেটেড এবং ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড।

শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এইচ-১বি কর্মসূচির শ্রম ও বিধিবদ্ধ শর্ত লঙ্ঘনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বকেয়া মজুরি পরিশোধ, আর্থিক জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

শ্রম বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, গোয়ারাটেকের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে ২০২৫ সালের ১২ মে থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত। রেনোটেক গ্রুপ নিষিদ্ধ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত।

সিলোজের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ এবং চলবে ২০২৮ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। শেরউড একাডেমির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ২৫ মে পর্যন্ত।

ডেইন ভিঞ্চি একাডেমির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে এবং তা চলবে ২০২৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত।

শ্রম বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর অর্থ হলো, এইচ-১বি কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও বিধি মেনে চলার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কোনো নিয়োগকর্তা এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ হলেই সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নিষেধাজ্ঞার মূল প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি নতুন এইচ-১বি কর্মী স্পনসর বা সংশ্লিষ্ট আবেদন করতে পারে না। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ভিসা নবায়ন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন বা দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে শুধু কোম্পানিটি নিষিদ্ধ হয়েছে কি না, সেটি দেখলেই তাঁর অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্মীর এইচ-১বি অবস্থান, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরবর্তী অভিবাসন পদক্ষেপ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

এই তালিকা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বা চাকরি খুঁজছেন এমন বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ ও স্পনসর করতে পারছে কি না, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ইতিহাস থাকলেই বর্তমান অবস্থাও একই থাকবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়োগকর্তার বর্তমান যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট চাকরির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়া যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও যোগ্যতার নিয়ম আলাদা। ফেডারেল সরকারের অনেক পদে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে। তাই সরকারি বা বেসরকারি চাকরি, উভয় ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পদের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।