যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এসআইএ লাইসেন্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ
- প্রকাশঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬
- / 10
লন্ডন, ১১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপত্তা খাত একটি সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। তবে এই খাতে কাজ করতে গেলে প্রথমেই জানা জরুরি, সব ধরনের নিরাপত্তাকাজের জন্য এসআইএ লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। কাজের ধরন, নিয়োগের কাঠামো এবং দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হয়।
নিরাপত্তা শিল্প কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট লাইসেন্সযোগ্য কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ এসআইএ লাইসেন্স ছাড়া কাজ করা আইনভঙ্গ হতে পারে। তাই যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তাকাজে যেতে চান এমন শিক্ষার্থীদের জন্য লাইসেন্সের ধরন, প্রশিক্ষণ, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এসআইএ লাইসেন্স কী?
এসআইএ বা নিরাপত্তা শিল্প কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যের বেসরকারি নিরাপত্তা খাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। নিরাপত্তা খাতে নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণভাবে নিরাপত্তা খাতে সামনের সারিতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য ফ্রন্টলাইন লাইসেন্স ব্যবহৃত হয়। আর নিরাপত্তাকর্মীদের পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার মতো নির্দিষ্ট দায়িত্বের ক্ষেত্রে নন-ফ্রন্টলাইন লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
কোন কোন কাজে এসআইএ লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে?
নিরাপত্তা খাতে একাধিক ধরনের কাজ রয়েছে এবং কাজের ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স আলাদা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে: নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন, দরজা তদারকির কাজ, ক্লোজ প্রোটেকশন, জনসমাগম এলাকায় ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনের নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চাবি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মী ও দরজা তদারকির কাজ তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিতে লাইসেন্স লাগবে কি না, সেটি পদটির প্রকৃত দায়িত্ব দেখে নিশ্চিত করতে হবে।
সব নিরাপত্তাকর্মীর কি এসআইএ লাইসেন্স লাগে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করলে লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কর্মী হিসেবে সরাসরি একজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করলে সেটিকে সাধারণত ইন-হাউস চাকরি বলা হয় এবং এ ধরনের কাজে সবসময় এসআইএ লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না।
তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে দরজা তদারকির মতো কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্বে ইন-হাউস কর্মীর ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই শুধু চাকরির পদবী দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়োগদাতা ও কাজের দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য লাইসেন্সের গুরুত্ব কোথায়?
এসআইএ লাইসেন্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, লাইসেন্স প্রয়োজন এমন নিরাপত্তা পদে আবেদন করার যোগ্যতা তৈরি করা।
লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপণনকেন্দ্র, অনুষ্ঠানস্থল, হোটেল, আবাসিক ভবন, নির্মাণস্থল ও অন্যান্য স্থানে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কাজ পালাভিত্তিক হওয়ায় দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা, রাত বা সপ্তাহান্তেও কাজের সুযোগ থাকতে পারে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘণ্টার কাজ নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা লাইসেন্স দেয় না। এসআইএ লাইসেন্স মূলত নির্দিষ্ট লাইসেন্সযোগ্য কাজ করার আইনগত যোগ্যতার একটি অংশ।
এসআইএ লাইসেন্স নিতে বয়স কত হতে হয়?
এসআইএ লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই এবং অন্যান্য নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা এসআইএ লাইসেন্স নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।
লাইসেন্স নেওয়ার আগে প্রশিক্ষণ নিতে হয়?
হ্যাঁ। অধিকাংশ ফ্রন্টলাইন এসআইএ লাইসেন্সের জন্য আগে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। যেমন নিরাপত্তাকর্মী বা দরজা তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।
এখানে একটি বিষয় শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার: প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং এসআইএ একই প্রতিষ্ঠান নয়। প্রশিক্ষণ সাধারণত অনুমোদিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিতে হয়।
আবেদন করার সময় কী কী যাচাই হয়?
এসআইএ লাইসেন্সের আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানার ইতিহাস এবং অন্যান্য নির্ধারিত তথ্য যাচাই করে। আবেদনকারীর উপযুক্ততা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়।
সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন ব্যর্থ হলে লাইসেন্সের আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়।
বিদেশি শিক্ষার্থী কি এসআইএ লাইসেন্স নিতে পারেন?
বিদেশি নাগরিক হওয়া নিজে থেকে এসআইএ লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাধা নয়। তবে যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসআইএ জানিয়েছে, লাইসেন্সধারীদের যুক্তরাজ্যে কাজের অধিকার পর্যালোচনার আওতায় থাকে। কারও ভিসার অবস্থা বা কাজের অধিকার পরিবর্তিত হলে তার লাইসেন্সও পর্যালোচনা বা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।
অর্থাৎ, এসআইএ লাইসেন্স থাকা এবং যুক্তরাজ্যে কাজ করার অনুমতি পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। একটি লাইসেন্স থাকলেই ভিসার শর্ত অতিক্রম করে কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায় না।
স্টুডেন্ট ভিসায় সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করা যায়?
এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। বর্তমান অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, স্বীকৃত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি বা তার ওপরে পূর্ণকালীন কোর্সে পড়া অনেক শিক্ষার্থী টার্ম চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট কিছু ডিগ্রির নিচের পূর্ণকালীন কোর্সে সীমা ১০ ঘণ্টা হতে পারে। আবার কিছু ধরনের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি থাকে না।
তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের ভিসার শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে তিনি কত ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন।
টার্ম শেষ হলে কি বেশি সময় কাজ করা যায়?
যেসব শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত অনুযায়ী টার্ম চলাকালে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার সীমার মধ্যে কাজ করতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি কোর্সের ধরন ও ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সময়কে ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণকালীন কাজের পরিকল্পনা করা উচিত নয়। নিজের কোর্সের নির্ধারিত টার্ম ও ছুটির সময় এবং ভিসার শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এসআইএ লাইসেন্স থাকলে কি চাকরি নিশ্চিত?
না।
এসআইএ লাইসেন্স চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। এটি এমন কিছু নিরাপত্তা পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অংশ, যেখানে আইন অনুযায়ী লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ দক্ষতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা, কাজের সময়ের প্রাপ্যতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং নিয়োগদাতার নিজস্ব শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই লাইসেন্স নেওয়ার আগে কোন ধরনের চাকরি করতে চান এবং সেই চাকরিতে লাইসেন্স আদৌ প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করা অর্থনৈতিকভাবে বেশি যুক্তিযুক্ত।
শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ধরনের নিরাপত্তাকাজ বিবেচনা করা যেতে পারে?
শিক্ষার্থীরা সাধারণত তাদের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পালাভিত্তিক নিরাপত্তাকাজ খুঁজতে পারেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নিরাপত্তাকর্মী: ভবন, সম্পত্তি বা নির্দিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দরজা তদারকি: লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন।
অনুষ্ঠান নিরাপত্তা: অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।
খুচরা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা: দোকান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন।
তবে প্রতিটি পদের দায়িত্ব এবং লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা আলাদা হতে পারে।
এসআইএ লাইসেন্সের খরচের বিষয়টি কীভাবে দেখবেন?
লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফি ছাড়াও প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জনে খরচ হতে পারে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ফি একেক জায়গায় একেক রকম হতে পারে।
তাই কম খরচের বিজ্ঞাপন দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না, প্রশিক্ষণটি সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের জন্য গ্রহণযোগ্য কি না এবং মোট খরচ কত হবে, তা আগে যাচাই করা উচিত।
এসআইএ নিজেই জানিয়েছে, লাইসেন্স-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে থাকে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের ফি এসআইএ নেয় না।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন?
নিরাপত্তাকাজে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত:
১. চাকরিটির জন্য এসআইএ লাইসেন্স সত্যিই প্রয়োজন কি না।
২. প্রয়োজন হলে কোন ধরনের লাইসেন্স লাগবে।
৩. নিয়োগদাতা সরাসরি কর্মী নিয়োগ করছে, নাকি কোনো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে।
৪. নিজের ভিসায় ওই কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না।
৫. কাজের সময় নিজের ভিসার অনুমোদিত সীমার মধ্যে আছে কি না।
৬. প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের মোট খরচ কত।
৭. প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না।
৮. চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন, কর্মঘণ্টা, কাজের স্থান ও অন্যান্য শর্ত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে কি না।
৯. নিয়োগদাতা লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করছে কি না।
এসআইএ নিজেও নিয়োগদাতাদের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করার ব্যবস্থা রেখেছে।
লাইসেন্স পাওয়ার পর কী দায়িত্ব থাকে?
লাইসেন্স পাওয়ার পরও কিছু নিয়ম মানতে হয়। ফ্রন্টলাইন লাইসেন্সধারীদের সাধারণত কাজের সময় লাইসেন্স দৃশ্যমানভাবে পরতে হয়, যদি কাজের ধরন অনুযায়ী গোপন পরিচয়ে কাজ করার ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হয়।
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে তা জানানো, নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধ বা অভিযোগের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং নাম বা ঠিকানার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবর্তন হলে তা অবহিত করাও লাইসেন্সধারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সতর্কতা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি কি ভালো বিনিয়োগ?
যে শিক্ষার্থী সত্যিই নিরাপত্তা খাতে কাজ করতে চান এবং যে ধরনের চাকরিতে এসআইএ লাইসেন্স প্রয়োজন, তার জন্য লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ হতে পারে। কারণ এটি নির্দিষ্ট ধরনের চাকরিতে আইনগতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে এবং কাজের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে পারে।
তবে শুধু পার্ট-টাইম চাকরি পাওয়ার আশায় লাইসেন্স নেওয়া সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক নাও হতে পারে। শিক্ষার্থীর উচিত আগে চাকরির বাজার, নিজের ভিসার শর্ত, প্রশিক্ষণের খরচ এবং সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা বিবেচনা করা। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তা খাতে কাজ করতে চান এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এসআইএ লাইসেন্স গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটিকে শুধু একটি চাকরির সনদ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা হবে না।
প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে কাজটি লাইসেন্সযোগ্য কি না, কোন লাইসেন্স প্রয়োজন, প্রশিক্ষণের কী যোগ্যতা লাগবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে নিজের স্টুডেন্ট ভিসায় ওই কাজ ও কর্মঘণ্টা অনুমোদিত কি না।
সঠিক তথ্য যাচাই করে লাইসেন্স নিলে এটি নিরাপত্তা খাতে পার্ট-টাইম কাজের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ তৈরি করতে পারে। তবে ভিসার শর্ত ভেঙে কাজ করলে এসআইএ লাইসেন্স থাকলেও সেই কাজ বৈধ হয়ে যায় না।


























