ঢাকা ০৮:৩০ , Sat, ১৫ Aug ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী ব্রিটিশ সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:১৪
  • / 6
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার কমাতে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এ লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ সরকারের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ শক্তিশালী করার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের আগ্রহের কথা জানান। আলোচনায় মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে যেসব খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতের উপযোগী প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে আরও জোরদার করা হলে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আধুনিক করতে ব্রিটিশ সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ আরও কার্যকর হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রতারণা ও শোষণের বিষয়টিও উঠে আসে। মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের প্রবণতা কমাতে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা জাতীয়তাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্য নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আশ্রয় পাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ অনুমোদিত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার ছিল ১৪ শতাংশ।

একই সময়ে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো শীর্ষ পাঁচ জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশিরা ছিলেন না।

তবে আলোচনায় আসা বিষয়গুলোকে এখনই নতুন কোনো ভিসা বা অভিবাসন কর্মসূচির ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহই এতে প্রকাশ পেয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী ব্রিটিশ সরকার

প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:১৪

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার কমাতে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এ লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ সরকারের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ শক্তিশালী করার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের আগ্রহের কথা জানান। আলোচনায় মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে যেসব খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতের উপযোগী প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে আরও জোরদার করা হলে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আধুনিক করতে ব্রিটিশ সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ আরও কার্যকর হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রতারণা ও শোষণের বিষয়টিও উঠে আসে। মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের প্রবণতা কমাতে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা জাতীয়তাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্য নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আশ্রয় পাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ অনুমোদিত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার ছিল ১৪ শতাংশ।

একই সময়ে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো শীর্ষ পাঁচ জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশিরা ছিলেন না।

তবে আলোচনায় আসা বিষয়গুলোকে এখনই নতুন কোনো ভিসা বা অভিবাসন কর্মসূচির ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহই এতে প্রকাশ পেয়েছে।