কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫২ জন সদস্যকে আটক করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে খেলার সময় মিয়ানমার থেকে আসা একটি গুলি হুজাইফা সুলতানা আপনানের (৮) মাথায় লাগে। তিনি স্থানীয় হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
আহত শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গুলিবিদ্ধ শিশুর ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা একটি বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আহত শিশুর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলে এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিজিবি নাফ নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মোট ৫২ জন সদস্যকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে— রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা): ৩ জন, রোহিঙ্গা ইসলামী মাহাস সংগঠন: ১৮ জন, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ): ২৯ জন, বাংলাদেশি কাঁকড়া শিকারি: ২ জন।
আটকদের মধ্যে একজন আহত থাকায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শনিবার রাত থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। ওপার থেকে কামানের গোলা ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যাওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিজিবি ও কোস্ট গার্ড নাফ নদীসহ সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে। নতুন করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



























