মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চায় সরকার
- প্রকাশঃ ০২:১৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 41
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ও আহতদের জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা এবং আহতদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে নিহত শিশু ও শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের বয়স ও আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম মাত্রার আহত শিশুদের জন্য ৩০ লাখ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম বা স্বল্পমেয়াদি আহতদের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য ১৫ লাখ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর অগ্নিদগ্ধদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্যাকেজ রাখা হয়েছে। যেসব আহত ব্যক্তির ১৫ বছর পর্যন্ত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য ১৫ লাখ টাকা, ১০ বছর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এক লাখ টাকা পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবারকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের অর্ধেক অর্থ এককালীন নগদ এবং বাকি অর্ধেক পাঁচ বছরের সঞ্চয়পত্র আকারে দেওয়া হবে। আহত শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের ৫০ শতাংশ দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে—প্রথম কিস্তি দেওয়ার এক বছর পর দ্বিতীয় কিস্তি প্রদান করা হবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখা হবে, যা শিশুর বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে না। প্রাপ্তবয়স্ক আহতদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকলেও, সঞ্চয়পত্র থেকে উত্তোলন পাঁচ বছরের আগে সম্ভব হবে না।
এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্থ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে প্রদান করা হবে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আহতদের ভবিষ্যৎ জীবনে সম্ভাব্য দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি, আঘাতের মাত্রা এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে বিধ্বস্ত বিমানের তরুণ পাইলটের পরিবারের জন্য এই প্যাকেজে কোনো ক্ষতিপূরণ সুপারিশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তাদের নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী পাইলটের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে যেভাবে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতেও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিশন এসব সুপারিশ করেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকার আশা প্রকাশ করেছে, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষতিপূরণ প্যাকেজটি চূড়ান্ত হলে নিহত ও আহতদের পরিবার প্রয়োজনীয় আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা পাবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন নিহত এবং অন্তত ১৭২ জন আহত হন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী, যাদের বড় একটি অংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।






























