সিলেটে বিপুল ভোটে জিতলেন বিএনপির তিন প্রবাসী
- প্রকাশঃ ০৮:৪২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 19
এম এ মালিক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ও মো. সওকতুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন হেভিওয়েট প্রবাসী নেতা। নির্বাচনী মাঠের লড়াই শেষে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন তারা। বিজয়ীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন।
আসনভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ
সিলেটের তিন জেলায় বিএনপির এই তিন প্রবাসী প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ): বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।
সুনামগঞ্জ–৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ): যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (তালা প্রতীক) পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট।
মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া): যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. সওকতুল ইসলাম ৮৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান
বিএনপি দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক ও মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ফেরা: এম এ মালিক দীর্ঘ ১৯ বছর প্রবাসে থাকার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর দেশে ফেরেন। প্রবাসে অবস্থানকালেও তিনি শেখ হাসিনা সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর জেরে ২০২১ সালে তাঁর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ প্রায় এক যুগ পর দেশে ফেরেন। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতে, এলাকায় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করায় তিনি সহজেই ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম এর আগে অনিয়মিতভাবে দেশে আসলেও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এলাকায় অবস্থান করে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা তাঁর বিজয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

















