ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলের প্রথম সারিতে নেলী, লড়তে চান জকসুতেও

ইমতিয়াজ উদ্দিন । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৯:২২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 24

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেত্রী থেকে এখন ছাত্রদলের সামনের সারির মুখ—এই রূপান্তর ঘটেছে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর জীবনে। আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের প্যানেলে হল সংসদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই নেলী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের ছাত্রীহলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনটির প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ছাত্রলীগ নেতার প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত নেলী ভর্তি হওয়ার পরপরই ছাত্রীহলে ওঠেন, যা ছাত্রলীগের ভেতরেই বিতর্ক সৃষ্টি করে। তখন থেকেই তিনি ছাত্রীহলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইনের প্যানেলে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও আড্ডায় তার উপস্থিতির ছবি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। এসব ছবি এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে নেলীর অংশগ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই সময় থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন,

যে মেয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তাকে আমরা আমাদের পক্ষ বিবেচনা করব। সে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অংশ।

ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেলী দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেন। ছাত্রীহলে ছাত্রলীগের প্রাক্তন কর্মীদের নিয়েও তিনি নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন। সংগঠনের ভেতর থেকেই অনেকেই বলছেন, নেলীর মাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি অংশ কৌশলগতভাবে ছাত্রদলে প্রবেশ করেছে।

ছাত্রীহলের বিভিন্ন ফ্লোরে এখন নেলীর প্রভাব স্পষ্ট। ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেত্রীদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘনিষ্ঠ একটি নেটওয়ার্ক, যাদের মাধ্যমে হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
জকসু নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রীহলে নিয়মিত বৈঠক করছেন নেলী ও তার সহযোগীরা। তাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রেখেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বলেও জানা গেছে।

ছাত্রলীগের একাংশ নেলীর এই রূপান্তরকে কৌশল বলছে। জবি ছাত্রলীগের পরিসংখ্যান বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম নিজের ফেসবুকে নেলীর ছবি পোস্ট করে লেখেন,“আমাদের ছাত্রলীগের ছোট বোন ছিল সাদিয়া। গার্লফ্রেন্ড কোটায় হলে উঠেছিল, এখন ছাত্রদলের সামনের সারিতে।

এই পোস্টে অনেক ছাত্রলীগ কর্মী নেলীর নতুন অভিযাত্রার জন্য ‘শুভ কামনা’ জানিয়েও মন্তব্য করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে সাদিয়া সুলতানা নেলী বলেন,

“কোনো প্যানেলে নির্বাচন করব, তা এখনো ঠিক করিনি। তবে ছাত্রী হলে হল সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,

আমি ছাত্রলীগ করতাম, সবাই জানে। ২০২৩ সালে ছাত্রলীগের দাপটের সময় হলে সিট পাওয়ার জন্যই সেখানে ছিলাম। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় আমি তাদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বড় অংশ এখনো সক্রিয় না হলেও পেছনের সারির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে সরব। আসন্ন জকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকায়ও তাদের নাম আছে। ফলে নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে তারা—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্যান্য সংগঠনের নেতারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলের প্রথম সারিতে নেলী, লড়তে চান জকসুতেও

প্রকাশঃ ০৯:২২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেত্রী থেকে এখন ছাত্রদলের সামনের সারির মুখ—এই রূপান্তর ঘটেছে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর জীবনে। আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের প্যানেলে হল সংসদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই নেলী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের ছাত্রীহলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনটির প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ছাত্রলীগ নেতার প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত নেলী ভর্তি হওয়ার পরপরই ছাত্রীহলে ওঠেন, যা ছাত্রলীগের ভেতরেই বিতর্ক সৃষ্টি করে। তখন থেকেই তিনি ছাত্রীহলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইনের প্যানেলে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও আড্ডায় তার উপস্থিতির ছবি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। এসব ছবি এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে নেলীর অংশগ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই সময় থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন,

যে মেয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তাকে আমরা আমাদের পক্ষ বিবেচনা করব। সে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অংশ।

ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেলী দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেন। ছাত্রীহলে ছাত্রলীগের প্রাক্তন কর্মীদের নিয়েও তিনি নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন। সংগঠনের ভেতর থেকেই অনেকেই বলছেন, নেলীর মাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি অংশ কৌশলগতভাবে ছাত্রদলে প্রবেশ করেছে।

ছাত্রীহলের বিভিন্ন ফ্লোরে এখন নেলীর প্রভাব স্পষ্ট। ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেত্রীদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘনিষ্ঠ একটি নেটওয়ার্ক, যাদের মাধ্যমে হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
জকসু নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রীহলে নিয়মিত বৈঠক করছেন নেলী ও তার সহযোগীরা। তাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রেখেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বলেও জানা গেছে।

ছাত্রলীগের একাংশ নেলীর এই রূপান্তরকে কৌশল বলছে। জবি ছাত্রলীগের পরিসংখ্যান বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম নিজের ফেসবুকে নেলীর ছবি পোস্ট করে লেখেন,“আমাদের ছাত্রলীগের ছোট বোন ছিল সাদিয়া। গার্লফ্রেন্ড কোটায় হলে উঠেছিল, এখন ছাত্রদলের সামনের সারিতে।

এই পোস্টে অনেক ছাত্রলীগ কর্মী নেলীর নতুন অভিযাত্রার জন্য ‘শুভ কামনা’ জানিয়েও মন্তব্য করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে সাদিয়া সুলতানা নেলী বলেন,

“কোনো প্যানেলে নির্বাচন করব, তা এখনো ঠিক করিনি। তবে ছাত্রী হলে হল সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,

আমি ছাত্রলীগ করতাম, সবাই জানে। ২০২৩ সালে ছাত্রলীগের দাপটের সময় হলে সিট পাওয়ার জন্যই সেখানে ছিলাম। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় আমি তাদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বড় অংশ এখনো সক্রিয় না হলেও পেছনের সারির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে সরব। আসন্ন জকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকায়ও তাদের নাম আছে। ফলে নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে তারা—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্যান্য সংগঠনের নেতারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”