গাজার মায়েদের একমাত্র প্রার্থনা: সন্তানরা যেন আরেকটা দিন বেঁচে থাকে
- প্রকাশঃ ০৩:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / 107
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ–সংঘাতে বিপর্যস্ত গাজায় স্বাভাবিক জীবন আজ এক অদেখা স্বপ্নের মতো। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা, খাদ্য–সংকট, নিরাপত্তাহীনতা আর প্রাণরক্ষার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন এখানকার মায়েরা। গোলাগুলি, বোমার শব্দ আর ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই সন্তানদের বড় করে তুলতে হচ্ছে তাঁদের।
এই যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন লেখক ও ফিলিস্তিনি মা ডায়ানা শামস তাঁর বই A Different Kind of Motherhood-এ। যুদ্ধ শুরুর আগে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাজার উত্তরাঞ্চলে এক স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরদিনই সবকিছু বদলে যায়। নবজাতক সন্তান রোজকে কোলে নিয়ে পরিবারসহ ঘর ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তখন সন্তানের বয়স ছিল মাত্র সাত মাস।
মাতৃত্বের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে ডায়ানা বলেন, গাজায় এমনকি মাতৃত্বও ভয়ের লক্ষ্যবস্তু। জীবন বহন করা মানে ঝুঁকি বহন করা। সন্তান লালন-পালন মানে গোলাগুলির নিচে, ড্রোনের শব্দে, বোমার বিস্ফোরণে আর একের পর এক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে বেড়ে ওঠা।
তিনি জানান, তাঁর বইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য বিশ্ববাসীকে, বিশেষ করে বিশ্বের মায়েদের, গাজার মায়েদের ব্যথা অনুভব করানো। সব মায়েই আমাদের যন্ত্রণা বুঝবেন, কারণ ভালোবাসা, স্বপ্ন আর শক্তি—বিশ্বের প্রতিটি মায়েরই একই। তাঁরা শুধু নিজের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান, বলেন ডায়ানা।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু–আতঙ্কের সঙ্গে লড়াই করতে করতে গাজার মায়েরা আজ যেন এক স্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে বন্দী। ডায়ানা শামসের ভাষায়— এখানকার মায়েদের প্রার্থনা একটাই—তাদের সন্তানরা যেন আরেকটা দিন বেঁচে থাকে।













