ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: সদস্যপদ পেতে গুনতে হবে ১০০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮:১৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 79

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী দেশগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি খসড়া সনদের বরাতে রোববার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্থার তহবিল পরিচালনা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং এজেন্ডা নির্ধারণে তাঁর হাতে থাকবে একচ্ছত্র ক্ষমতা। এমনকি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিজের উত্তরসূরিও নিজেই মনোনীত করতে পারবেন।

সনদে বলা হয়েছে: সদস্যপদ: সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর। স্থায়ী সদস্যপদ: যে সব দেশ প্রথম বছরের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি ডলার তহবিল প্রদান করবে, তারা বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করবে। একক ক্ষমতা: বোর্ডের ভোটাভুটি এবং সদস্যদের পদচ্যুত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের হাতে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা শুরু করেছে। বিশেষ করে তহবিলের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি অনেক দেশের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প মূলত জাতিসংঘের সমান্তরাল বা প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যেখানে দাপ্তরিক সিলমোহর অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকবে তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে।

মূল বোর্ড গঠনের আগেই কার্যক্রম শুরু করার জন্য হোয়াইট হাউস একটি প্রাথমিক নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। 

এছাড়া আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং কানাডার মার্ক কার্নিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতাকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যদিও সনদে এই বোর্ডকে ‘দ্বন্দ্বকবলিত এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, এর বাণিজ্যিক ও একক আধিপত্যবাদী রূপটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

তহবিলের স্বচ্ছতা এবং একক ব্যক্তির হাতে সর্বময় ক্ষমতা থাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে অনেক রাষ্ট্র, যারা এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

শেয়ার করুন

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: সদস্যপদ পেতে গুনতে হবে ১০০ কোটি ডলার

প্রকাশঃ ০৮:১৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী দেশগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি খসড়া সনদের বরাতে রোববার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্থার তহবিল পরিচালনা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং এজেন্ডা নির্ধারণে তাঁর হাতে থাকবে একচ্ছত্র ক্ষমতা। এমনকি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিজের উত্তরসূরিও নিজেই মনোনীত করতে পারবেন।

সনদে বলা হয়েছে: সদস্যপদ: সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর। স্থায়ী সদস্যপদ: যে সব দেশ প্রথম বছরের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি ডলার তহবিল প্রদান করবে, তারা বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করবে। একক ক্ষমতা: বোর্ডের ভোটাভুটি এবং সদস্যদের পদচ্যুত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের হাতে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা শুরু করেছে। বিশেষ করে তহবিলের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি অনেক দেশের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প মূলত জাতিসংঘের সমান্তরাল বা প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যেখানে দাপ্তরিক সিলমোহর অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকবে তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে।

মূল বোর্ড গঠনের আগেই কার্যক্রম শুরু করার জন্য হোয়াইট হাউস একটি প্রাথমিক নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। 

এছাড়া আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং কানাডার মার্ক কার্নিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতাকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যদিও সনদে এই বোর্ডকে ‘দ্বন্দ্বকবলিত এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, এর বাণিজ্যিক ও একক আধিপত্যবাদী রূপটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

তহবিলের স্বচ্ছতা এবং একক ব্যক্তির হাতে সর্বময় ক্ষমতা থাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে অনেক রাষ্ট্র, যারা এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ