ঢাকা ০৪:২১ , Sat, ০৫ Sep ২০২৬

নিউ ইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদে সিলেটের খন্দকার আব্দুল্লাহ

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৯
  • / 10
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইন্সপেক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ ছবি: প্রজন্ম কথা

নিউইয়র্ক, ৪ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জের খন্দকার আব্দুল্লাহ। তিনি এর আগে এনওয়াইপিডির ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রকাশ্য নথিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তিনি এনওয়াইপিডির কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর দায়িত্বের তথ্য নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন নথিতেও পাওয়া যায়।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামের সন্তান খন্দকার আব্দুল্লাহ ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। জন জে কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই পুলিশ কর্মকর্তা কর্মজীবনে বিভিন্ন ইউনিট ও দায়িত্বে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পুলিশ পদক পেয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তিনি সাবলীল বাংলায় কথা বলেন এবং পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন।

খন্দকার আব্দুল্লাহ ২০০৫ সালের গ্রীষ্মে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যুক্ত হন। কলেজে পড়ার সময় একটি চাকরি মেলায় এনওয়াইপিডিতে কাজের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে খণ্ডকালীন শিক্ষানবিশ হিসেবে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ তখন থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়। ২০০৭ সালে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শপথ নেন।

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এনওয়াইপিডির একাধিক ইউনিট ও প্রিসিংক্টে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁকে ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নিউইয়র্ক সিটির একটি নথিতেও তাঁকে ওই প্রিসিংক্টের ডেপুটি ইন্সপেক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান তিনি। প্রকাশ্য কর্মসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তিনি এনওয়াইপিডির কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। নিউইয়র্কে বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের কথা স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ পুলিশি কর্মজীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল্লাহর পারিবারিক শিকড় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামে। তিনি মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক সংবাদের সম্পাদক প্রয়াত গজনফর আলী চৌধুরীর ছোট বোনের একমাত্র ছেলে। এই পারিবারিক পরিচয়ের কারণে তাঁর পেশাগত অগ্রগতি সিলেটের মানুষের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের ইন্সপেক্টর পদে তাঁর পদোন্নতি দুই দশকের বেশি সময়ের পুলিশি কর্মজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন কর্মকর্তার এই পর্যায়ের দায়িত্বে পৌঁছানো প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

❤️
👏
🙂
😞

নিউ ইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদে সিলেটের খন্দকার আব্দুল্লাহ

প্রকাশঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৯

নিউইয়র্ক, ৪ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জের খন্দকার আব্দুল্লাহ। তিনি এর আগে এনওয়াইপিডির ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রকাশ্য নথিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তিনি এনওয়াইপিডির কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর দায়িত্বের তথ্য নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন নথিতেও পাওয়া যায়।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামের সন্তান খন্দকার আব্দুল্লাহ ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। জন জে কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই পুলিশ কর্মকর্তা কর্মজীবনে বিভিন্ন ইউনিট ও দায়িত্বে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পুলিশ পদক পেয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তিনি সাবলীল বাংলায় কথা বলেন এবং পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন।

খন্দকার আব্দুল্লাহ ২০০৫ সালের গ্রীষ্মে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যুক্ত হন। কলেজে পড়ার সময় একটি চাকরি মেলায় এনওয়াইপিডিতে কাজের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে খণ্ডকালীন শিক্ষানবিশ হিসেবে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ তখন থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়। ২০০৭ সালে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শপথ নেন।

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এনওয়াইপিডির একাধিক ইউনিট ও প্রিসিংক্টে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁকে ৮১তম প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নিউইয়র্ক সিটির একটি নথিতেও তাঁকে ওই প্রিসিংক্টের ডেপুটি ইন্সপেক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান তিনি। প্রকাশ্য কর্মসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তিনি এনওয়াইপিডির কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। নিউইয়র্কে বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের কথা স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ পুলিশি কর্মজীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল্লাহর পারিবারিক শিকড় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামে। তিনি মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক সংবাদের সম্পাদক প্রয়াত গজনফর আলী চৌধুরীর ছোট বোনের একমাত্র ছেলে। এই পারিবারিক পরিচয়ের কারণে তাঁর পেশাগত অগ্রগতি সিলেটের মানুষের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের ইন্সপেক্টর পদে তাঁর পদোন্নতি দুই দশকের বেশি সময়ের পুলিশি কর্মজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন কর্মকর্তার এই পর্যায়ের দায়িত্বে পৌঁছানো প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।