১২ ভোটের ব্যবধানে জয়, মিশিগানের হামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ
- প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯
- / 21
মিশিগান, ১৭ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে ৩৭টি ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনার পর জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক সিটি কাউন্সিল সদস্য মুহিত মাহমুদ। নতুন গণনায় তিনি বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবিকে ১২ ভোটে পেছনে ফেলেছেন। তবে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
শুক্রবার ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সের প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে গণনার বাইরে থাকা ব্যালটগুলো গণনা করা হয়। নির্বাচনের পরদিন হামট্রামিক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ের কর্মীরা ব্যালটগুলো খুঁজে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে শুরুতে ব্যালটগুলো গণনা করতে অস্বীকৃতি জানায় বোর্ড। এরপর সেগুলো গণনা করা নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে আইনি লড়াই চলে। মাহমুদ ব্যালট গণনার পক্ষে অবস্থান নেন, আর মেয়র আলহারবি এর বিরোধিতা করেন। একাধিক শুনানির পর আদালতে আইনি লড়াইয়ে জয় পান মাহমুদ।
নতুন গণনায় মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। এর আগে নভেম্বরের নির্বাচনে আলহারবি ১১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
তবে এ বিরোধের অবসান এখনো হয়নি। আলহারবি ও তাঁর আইনজীবী নাবিহ আয়াদ ৩৭টি ব্যালটের বৈধতা নিয়ে আবারও আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা বলেছেন। ফল ঘোষণার পর আয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’
আগামী ৪ নভেম্বর বোর্ড নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন করার পর মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব নিতে পারবেন। এর আগে হামট্রামিকের সিটি অ্যাটর্নি ওদে মেরুয়েহ বলেন, এ সময় শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মেয়র থাকছেন না। মেয়র প্রো টেম হিসেবে সিটি কাউন্সিল সদস্য আবু মুসা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে। আয়াদ জানান, এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বিবেচনা করছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি তিনি। মাহমুদ সংবাদমাধ্যম দ্য রিভিউকে বলেছেন, আয়াদ সম্ভবত তাঁকেই ইঙ্গিত করেছেন।
মাহমুদ হামট্রামিকে বসবাস করেন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আলহারবি দাবি করেছেন, মাহমুদ শহরটির বাসিন্দা নন। এ অভিযোগে তাঁকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত আদালতে সফল হননি আলহারবি। মাহমুদ বলেছেন, তাঁর স্ত্রী ও পরিবার ট্রয় শহরে থাকলেও তিনি হামট্রামিকের হলব্রুক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন।
৩৭টি ব্যালটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আলহারবি। তাঁর দাবি, অতীতে ব্যালট সংগ্রহ ও কারচুপির অভিযোগ থাকায় এসব ব্যালটের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচনের পরদিন ব্যালটগুলো পাওয়া যাওয়ায় সেগুলোর হেফাজত ও হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা বা ‘চেইন অব কাস্টডি’ নষ্ট হয়েছে বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। তবে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত হলেও অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যালটগুলো এসেছে এমন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে, যেখানে অধিকাংশ ভোটার বাংলাদেশি অভিবাসী। মাহমুদও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
নতুন ফল ঘোষণার সময় গণনার কক্ষে উপস্থিত মাহমুদের সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা গণনার সময় কক্ষটি গরম ও জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপস্থিত ব্যক্তিদের সংযত আচরণের আহ্বান জানায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
জয়ের পর মাহমুদ বলেন, ৩৭টি ব্যালট গণনার দাবিটি তাঁর ব্যক্তিগতভাবে মেয়র হওয়ার জন্য ছিল না, বরং ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য ছিল। তিনি আলহারবিকে বিরোধ পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে আলহারবি বলেন, নতুন করে গণনার পর এমন ফল আসতে পারে, তা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল না।
সূত্র: দ্য রিভিউ





























