ঢাকা ০৮:৪০ , Mon, ০২ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

বিশেষ বিচারিক ক্ষমতাসহ মার্কিন সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হলেন খুলনার শেখ আল আমিন

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৫৭
  • / 4
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিউইয়র্কের ৪০৮তম মানবসম্পদ কোম্পানির কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়েছেন খুলনায় জন্ম নেওয়া ক্যাপ্টেন শেখ আল আমিন। ছবি: সংগৃহীত 

নিউইয়র্ক, ১ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে বিশেষ বিচারিক কর্তৃত্বসহ কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ক্যাপ্টেন শেখ আল আমিন। গত ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের বেসাইডে অবস্থিত ৪০৮তম মানবসম্পদ কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। নতুন দায়িত্বের আওতায় ইউনিটের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক বিচারসংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কর্তৃত্বও পেয়েছেন এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন শেখ আল আমিন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আইনের আওতায় কমান্ডারের নির্দিষ্ট বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে। ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিসের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃত্বের মধ্যে ইউনিটের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সামরিক অপরাধের বিষয়ে বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।

খুলনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে

খুলনায় জন্ম নেওয়া শেখ আল আমিন ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১৮ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। পরে অফিসার প্রার্থী বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৩ সালে কমিশন লাভ করেন। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করেন শেখ আল আমিন। ওই সময়ে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক সামরিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশেও দায়িত্ব

মার্কিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বিশেষ অভিযান বিভাগেও কর্মরত রয়েছেন শেখ আল আমিন। ২০২৪ সালে পুলিশি দায়িত্বে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিশেষ পুলিশি দায়িত্ব পালনের পুরস্কার পান।

শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের লেম্যান কলেজ থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ৪.০০ জিপিএ নিয়ে।

বর্তমানে স্ত্রী ন্যান্সি আক্তার লিজা, দুই সন্তান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিউইয়র্কের কুইন্সে বসবাস করছেন শেখ আল আমিন।

প্রবাসী কমিউনিটির কর্মকাণ্ডেও যুক্ত

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নাগরিক সম্পৃক্ততাবিষয়ক কার্যালয়ের জীবনীতে তাঁকে ইয়র্ক কলেজ প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর খুলনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করছেন তিনি। তাঁর নতুন দায়িত্ব ও পদোন্নতিতে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

খুলনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করার মধ্য দিয়ে শেখ আল আমিনের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। তাঁর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে এনেছে।

❤️
👏
🙂
😞

বিশেষ বিচারিক ক্ষমতাসহ মার্কিন সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হলেন খুলনার শেখ আল আমিন

প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৫৭

নিউইয়র্ক, ১ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে বিশেষ বিচারিক কর্তৃত্বসহ কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ক্যাপ্টেন শেখ আল আমিন। গত ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের বেসাইডে অবস্থিত ৪০৮তম মানবসম্পদ কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। নতুন দায়িত্বের আওতায় ইউনিটের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক বিচারসংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কর্তৃত্বও পেয়েছেন এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন শেখ আল আমিন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আইনের আওতায় কমান্ডারের নির্দিষ্ট বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে। ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিসের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃত্বের মধ্যে ইউনিটের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সামরিক অপরাধের বিষয়ে বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।

খুলনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে

খুলনায় জন্ম নেওয়া শেখ আল আমিন ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১৮ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। পরে অফিসার প্রার্থী বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৩ সালে কমিশন লাভ করেন। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করেন শেখ আল আমিন। ওই সময়ে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক সামরিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশেও দায়িত্ব

মার্কিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বিশেষ অভিযান বিভাগেও কর্মরত রয়েছেন শেখ আল আমিন। ২০২৪ সালে পুলিশি দায়িত্বে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিশেষ পুলিশি দায়িত্ব পালনের পুরস্কার পান।

শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের লেম্যান কলেজ থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ৪.০০ জিপিএ নিয়ে।

বর্তমানে স্ত্রী ন্যান্সি আক্তার লিজা, দুই সন্তান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিউইয়র্কের কুইন্সে বসবাস করছেন শেখ আল আমিন।

প্রবাসী কমিউনিটির কর্মকাণ্ডেও যুক্ত

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নাগরিক সম্পৃক্ততাবিষয়ক কার্যালয়ের জীবনীতে তাঁকে ইয়র্ক কলেজ প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর খুলনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করছেন তিনি। তাঁর নতুন দায়িত্ব ও পদোন্নতিতে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

খুলনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করার মধ্য দিয়ে শেখ আল আমিনের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। তাঁর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে এনেছে।