ঢাকা ০৬:৫২ , Mon, ০২ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

কানাডার নাগরিকত্ব পেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিক, সন্তান-নাতি-নাতনির জন্যও সুযোগ

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১৪
  • / 7
কানাডীয় পূর্বপুরুষের সঙ্গে সরাসরি বংশধারা প্রমাণ করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক নাগরিক এবং তাঁদের সন্তান-নাতি-নাতনিরাও কানাডার নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন। ছবি: ইমিপাথ

অটোয়া, ১ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): পরিবারের কোনো পূর্বপুরুষ কানাডার নাগরিক হয়ে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক মানুষও কানাডার নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন। সরাসরি বংশধারায় কানাডীয় নাগরিক পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারলে তাঁদের সন্তান এমনকি নাতি-নাতনিরাও নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বয়সের বাধা নেই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কানাডায় বসবাসেরও প্রয়োজন হয় না।

কানাডার নাগরিকত্ব বংশসূত্রে পাওয়ার এ সুযোগকে অনেক পরিবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছে। কানাডার নাগরিকত্ব থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও বজায় রাখা যায়। ফলে সন্তান ও নাতি-নাতনিরা চাইলে ভবিষ্যতে কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি কিংবা বসবাসের সুযোগ নিতে পারবেন। আবার ইচ্ছা না হলে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে পারবেন।

সন্তানদের জন্য কী কী সুবিধা

কানাডার নাগরিকত্বের মেয়াদ শেষ হয় না। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই কানাডায় যেতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ সুবিধা কাজে লাগানো যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কানাডীয় নাগরিকেরা দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত টিউশন ফি দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও বা ফ্লোরিডায় বড় হওয়া কোনো শিক্ষার্থীও কানাডীয় নাগরিকত্বের যোগ্য হলে এ সুবিধা পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই শিক্ষাবর্ষে অন্টারিওর বাইরের কানাডীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কলা ও বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষের টিউশন ফি ৭ হাজার ৬১০ কানাডীয় ডলার, যা প্রায় ৫ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার। একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি ৬৬ হাজার ১১০ কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৪৭ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলার। চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিতে দুই ধরনের শিক্ষার্থীর মোট ব্যয়ের পার্থক্য ২ লাখ ৩০ হাজার কানাডীয় ডলারের বেশি হতে পারে।

তরুণ বয়সে বিদেশে কাজ ও ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। কানাডার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কর্মসূচির আওতায় ৩৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যুব চলাচল চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে যোগ্য তরুণ কানাডীয় নাগরিকেরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে কাজ ও ভ্রমণ করতে পারেন।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী কানাডীয় নাগরিকেরা যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার সুযোগ পেতে পারেন। আয়ারল্যান্ডে এ সময়সীমা দুই বছর। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালও এ কর্মসূচির অংশীদার। তবে প্রতিটি দেশ নিজস্ব বয়সসীমা ও বসবাসের শর্ত নির্ধারণ করে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এ সুবিধা নিতে বৈধ কানাডীয় পাসপোর্ট প্রয়োজন। আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৩০ মাস থাকতে হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কানাডায় চাকরি বা বসবাসের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব সুবিধা দেয়। কানাডীয় নাগরিক হিসেবে কেউ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই দেশটিতে চাকরি নিতে পারেন। একইভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন না করেও পরিবারসহ সেখানে বসবাসের সুযোগ রয়েছে।

তবে নাগরিকত্ব পেলেই স্বাস্থ্যসেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্যবিমা বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রদেশের বসবাসসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে অন্টারিওতে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় আসতে হলে ওই প্রদেশকে নিজের প্রধান বাসস্থান করতে হবে এবং বছরে অন্তত ১৫৩ দিন সেখানে থাকতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে এ প্রদেশে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আলাদা অপেক্ষার সময় নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশই দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি দেয়। ফলে কানাডার নাগরিকত্ব পেলেও কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট হারাবেন না। কানাডা সাধারণত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নয়, দেশটিতে বসবাসের ভিত্তিতে আয়কর আরোপ করে। তাই কানাডীয় নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলে কেবল নাগরিক হওয়ার কারণে কানাডায় আয়কর দিতে হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিদেশে বসবাস করলেও দেশটির করসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হয়।

কারা বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে পারেন

যোগ্য ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আগে থেকেই কানাডার নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁদের আবেদন করতে হয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়ার জন্য। এ সনদই তাঁদের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

মূল শর্ত হলো, আবেদনকারীকে বাবা-মা থেকে সন্তান পর্যন্ত সরাসরি ও অবিচ্ছিন্ন বংশধারা প্রমাণ করতে হবে। ওই ধারার কোনো এক পূর্বপুরুষ কানাডায় জন্মগ্রহণ করে অথবা দেশটিতে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে নাগরিক হয়ে থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরা যোগ্য হতে পারেন। পূর্বপুরুষের কানাডীয় পাসপোর্ট থাকা কিংবা নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক নয়।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বংশধারার প্রজন্মসংখ্যার কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ সরাসরি বংশধারায় কানাডীয় নাগরিক পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারলে কয়েক প্রজন্ম পরের ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভাষা পরীক্ষা, নাগরিকত্ব পরীক্ষা কিংবা কানাডায় বসবাসের শর্ত নেই।

আবেদনের জন্য প্রতিটি প্রজন্মের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নথি জমা দিতে হয়। সাধারণত প্রতিটি প্রজন্মের জন্মসনদে বাবা-মায়ের নাম এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষের জন্ম বা নাগরিকত্বের সনদ প্রয়োজন হয়। পারিবারিক বংশতালিকা ও বংশপরিচয় অনুসন্ধানের নথি পূর্বপুরুষের তথ্য খুঁজে পেতে সহায়ক হলেও সেগুলো একা নাগরিকত্বের আবেদন প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত

কানাডার নাগরিকত্ব বংশসূত্রে পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিল সি-৩ কার্যকর হওয়ার পর। নতুন আইনে জন্মতারিখের ভিত্তিতে দুটি পৃথক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওই তারিখে বা তার পরে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা বা মা নিজেও বিদেশে জন্মগ্রহণ করে কানাডার নাগরিক হয়ে থাকলে তাঁকে সন্তানের জন্ম বা দত্তক গ্রহণের আগে কানাডায় অন্তত ১ হাজার ৯৫ দিন বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। অর্থাৎ মোট তিন বছর কানাডায় থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে। এ সময় একটানা হতে হবে না; জীবনের বিভিন্ন সময়ে কানাডায় কাটানো দিনগুলো যোগ করা যাবে।

এ নিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারে বসবাসকারী কোনো কানাডীয় নাগরিক নারী কয়েক বছর পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে তাঁর নিজের জন্ম বিদেশে হয়ে থাকলে সন্তানের জন্মের আগে ১ হাজার ৯৫ দিন কানাডায় থাকার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।

আগেই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র সংগ্রহ করলেও এ শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। তবে সন্তান জন্মের আগে কানাডায় প্রয়োজনীয় সময় বসবাস করে শর্ত পূরণ করা সম্ভব। কানাডার ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা সাধারণ নিয়মে জন্মসূত্রেই নাগরিকত্ব পায়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ক্ষেত্রে নতুন ১ হাজার ৯৫ দিনের শর্ত প্রযোজ্য নয়। তাঁরা আগের নিয়মে সরাসরি বংশধারা প্রমাণ করতে পারলে নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন।

প্রতিটি প্রজন্মের জন্য আলাদা আবেদন

একজনের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দিয়ে তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনির নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যাবে না। প্রত্যেককে নিজের নামে আলাদা আবেদন করতে হবে এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষ পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্মের সম্পর্কের নথি জমা দিতে হবে। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়ার পর কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়।

কানাডার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নতুন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিষ্পত্তিতে আনুমানিক ৩৪ মাস সময় লাগছে। অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০০। ফলে এখন আবেদন করলে অনেকের সনদ পেতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।

পরিবারের একজন সদস্য বংশধারা অনুসন্ধান শুরু করলে অন্যদের আবেদনেও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ সহজ হতে পারে। জন্মসনদ, বিয়ের নথি এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষের নাগরিকত্বের প্রমাণ একত্রে সংরক্ষণ করলে পরবর্তী প্রজন্মের আবেদন প্রস্তুত করা সুবিধাজনক হয়।

কানাডীয় পূর্বপুরুষের সঙ্গে সরাসরি বংশধারা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন করার আগে জন্মতারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম এবং প্রতিটি প্রজন্মের প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সূত্র: সিআইসি নিউজ

❤️
👏
🙂
😞

কানাডার নাগরিকত্ব পেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিক, সন্তান-নাতি-নাতনির জন্যও সুযোগ

প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১৪

অটোয়া, ১ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): পরিবারের কোনো পূর্বপুরুষ কানাডার নাগরিক হয়ে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক মানুষও কানাডার নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন। সরাসরি বংশধারায় কানাডীয় নাগরিক পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারলে তাঁদের সন্তান এমনকি নাতি-নাতনিরাও নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বয়সের বাধা নেই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কানাডায় বসবাসেরও প্রয়োজন হয় না।

কানাডার নাগরিকত্ব বংশসূত্রে পাওয়ার এ সুযোগকে অনেক পরিবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছে। কানাডার নাগরিকত্ব থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও বজায় রাখা যায়। ফলে সন্তান ও নাতি-নাতনিরা চাইলে ভবিষ্যতে কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি কিংবা বসবাসের সুযোগ নিতে পারবেন। আবার ইচ্ছা না হলে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে পারবেন।

সন্তানদের জন্য কী কী সুবিধা

কানাডার নাগরিকত্বের মেয়াদ শেষ হয় না। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই কানাডায় যেতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ সুবিধা কাজে লাগানো যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কানাডীয় নাগরিকেরা দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত টিউশন ফি দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও বা ফ্লোরিডায় বড় হওয়া কোনো শিক্ষার্থীও কানাডীয় নাগরিকত্বের যোগ্য হলে এ সুবিধা পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই শিক্ষাবর্ষে অন্টারিওর বাইরের কানাডীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কলা ও বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষের টিউশন ফি ৭ হাজার ৬১০ কানাডীয় ডলার, যা প্রায় ৫ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার। একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি ৬৬ হাজার ১১০ কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৪৭ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলার। চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিতে দুই ধরনের শিক্ষার্থীর মোট ব্যয়ের পার্থক্য ২ লাখ ৩০ হাজার কানাডীয় ডলারের বেশি হতে পারে।

তরুণ বয়সে বিদেশে কাজ ও ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। কানাডার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কর্মসূচির আওতায় ৩৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যুব চলাচল চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে যোগ্য তরুণ কানাডীয় নাগরিকেরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে কাজ ও ভ্রমণ করতে পারেন।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী কানাডীয় নাগরিকেরা যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার সুযোগ পেতে পারেন। আয়ারল্যান্ডে এ সময়সীমা দুই বছর। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালও এ কর্মসূচির অংশীদার। তবে প্রতিটি দেশ নিজস্ব বয়সসীমা ও বসবাসের শর্ত নির্ধারণ করে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এ সুবিধা নিতে বৈধ কানাডীয় পাসপোর্ট প্রয়োজন। আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৩০ মাস থাকতে হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কানাডায় চাকরি বা বসবাসের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব সুবিধা দেয়। কানাডীয় নাগরিক হিসেবে কেউ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই দেশটিতে চাকরি নিতে পারেন। একইভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন না করেও পরিবারসহ সেখানে বসবাসের সুযোগ রয়েছে।

তবে নাগরিকত্ব পেলেই স্বাস্থ্যসেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্যবিমা বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রদেশের বসবাসসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে অন্টারিওতে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় আসতে হলে ওই প্রদেশকে নিজের প্রধান বাসস্থান করতে হবে এবং বছরে অন্তত ১৫৩ দিন সেখানে থাকতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে এ প্রদেশে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আলাদা অপেক্ষার সময় নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশই দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি দেয়। ফলে কানাডার নাগরিকত্ব পেলেও কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট হারাবেন না। কানাডা সাধারণত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নয়, দেশটিতে বসবাসের ভিত্তিতে আয়কর আরোপ করে। তাই কানাডীয় নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলে কেবল নাগরিক হওয়ার কারণে কানাডায় আয়কর দিতে হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিদেশে বসবাস করলেও দেশটির করসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হয়।

কারা বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে পারেন

যোগ্য ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আগে থেকেই কানাডার নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁদের আবেদন করতে হয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়ার জন্য। এ সনদই তাঁদের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

মূল শর্ত হলো, আবেদনকারীকে বাবা-মা থেকে সন্তান পর্যন্ত সরাসরি ও অবিচ্ছিন্ন বংশধারা প্রমাণ করতে হবে। ওই ধারার কোনো এক পূর্বপুরুষ কানাডায় জন্মগ্রহণ করে অথবা দেশটিতে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে নাগরিক হয়ে থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরা যোগ্য হতে পারেন। পূর্বপুরুষের কানাডীয় পাসপোর্ট থাকা কিংবা নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক নয়।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বংশধারার প্রজন্মসংখ্যার কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ সরাসরি বংশধারায় কানাডীয় নাগরিক পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারলে কয়েক প্রজন্ম পরের ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভাষা পরীক্ষা, নাগরিকত্ব পরীক্ষা কিংবা কানাডায় বসবাসের শর্ত নেই।

আবেদনের জন্য প্রতিটি প্রজন্মের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নথি জমা দিতে হয়। সাধারণত প্রতিটি প্রজন্মের জন্মসনদে বাবা-মায়ের নাম এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষের জন্ম বা নাগরিকত্বের সনদ প্রয়োজন হয়। পারিবারিক বংশতালিকা ও বংশপরিচয় অনুসন্ধানের নথি পূর্বপুরুষের তথ্য খুঁজে পেতে সহায়ক হলেও সেগুলো একা নাগরিকত্বের আবেদন প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত

কানাডার নাগরিকত্ব বংশসূত্রে পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিল সি-৩ কার্যকর হওয়ার পর। নতুন আইনে জন্মতারিখের ভিত্তিতে দুটি পৃথক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওই তারিখে বা তার পরে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা বা মা নিজেও বিদেশে জন্মগ্রহণ করে কানাডার নাগরিক হয়ে থাকলে তাঁকে সন্তানের জন্ম বা দত্তক গ্রহণের আগে কানাডায় অন্তত ১ হাজার ৯৫ দিন বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। অর্থাৎ মোট তিন বছর কানাডায় থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে। এ সময় একটানা হতে হবে না; জীবনের বিভিন্ন সময়ে কানাডায় কাটানো দিনগুলো যোগ করা যাবে।

এ নিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারে বসবাসকারী কোনো কানাডীয় নাগরিক নারী কয়েক বছর পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে তাঁর নিজের জন্ম বিদেশে হয়ে থাকলে সন্তানের জন্মের আগে ১ হাজার ৯৫ দিন কানাডায় থাকার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।

আগেই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র সংগ্রহ করলেও এ শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। তবে সন্তান জন্মের আগে কানাডায় প্রয়োজনীয় সময় বসবাস করে শর্ত পূরণ করা সম্ভব। কানাডার ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা সাধারণ নিয়মে জন্মসূত্রেই নাগরিকত্ব পায়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ক্ষেত্রে নতুন ১ হাজার ৯৫ দিনের শর্ত প্রযোজ্য নয়। তাঁরা আগের নিয়মে সরাসরি বংশধারা প্রমাণ করতে পারলে নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন।

প্রতিটি প্রজন্মের জন্য আলাদা আবেদন

একজনের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দিয়ে তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনির নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যাবে না। প্রত্যেককে নিজের নামে আলাদা আবেদন করতে হবে এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষ পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্মের সম্পর্কের নথি জমা দিতে হবে। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়ার পর কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়।

কানাডার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নতুন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিষ্পত্তিতে আনুমানিক ৩৪ মাস সময় লাগছে। অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০০। ফলে এখন আবেদন করলে অনেকের সনদ পেতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।

পরিবারের একজন সদস্য বংশধারা অনুসন্ধান শুরু করলে অন্যদের আবেদনেও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ সহজ হতে পারে। জন্মসনদ, বিয়ের নথি এবং কানাডীয় পূর্বপুরুষের নাগরিকত্বের প্রমাণ একত্রে সংরক্ষণ করলে পরবর্তী প্রজন্মের আবেদন প্রস্তুত করা সুবিধাজনক হয়।

কানাডীয় পূর্বপুরুষের সঙ্গে সরাসরি বংশধারা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন করার আগে জন্মতারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম এবং প্রতিটি প্রজন্মের প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সূত্র: সিআইসি নিউজ