ঢাকা ০৬:১৮ , Mon, ০২ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

এলএমআইএ সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলেও ওয়ার্ক পারমিট আবেদন বাতিল করতে পারবে না কানাডা

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৭
  • / 8
নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলেও সমসাময়িক প্রক্রিয়াকরণের আওতায় থাকা ওয়ার্ক পারমিট আবেদন আর ৯০ দিন পর বাতিল করবে না কানাডা। ছবি: প্রজন্ম কথা

অটোয়া, ১ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): নিয়োগকর্তার শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন বা এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের দেরি হলে কানাডায় বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন আর নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে বাতিল করা হবে না। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।

গত ২৮ অক্টোবর কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করে। এতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির আওতায় জমা দেওয়া ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে নিষ্পত্তি করা যাবে না।

এর আগে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ছিল, এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। নতুন নিয়মে এই নির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নতুন নিয়ম

পরিবর্তনটি মূলত একই সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ বা সমসাময়িক প্রক্রিয়াকরণের আওতায় করা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ ব্যবস্থায় কানাডায় কর্মরত কোনো বিদেশি কর্মী তাঁর নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এ সুযোগ পেতে কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হতে দুই সপ্তাহ বা তার কম সময় থাকতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তাকে যথেষ্ট আগেই এলএমআইএ আবেদন জমা দিতে হবে, যাতে কর্মীর বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ (ইএসডিসি) আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে পারবে বলে যুক্তিসংগত প্রত্যাশা থাকে।

বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো কর্মী মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তিনি ‘মেইনটেইনড স্ট্যাটাস’ সুবিধা পান। এর ফলে নতুন আবেদনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের পারমিটে থাকা শর্ত অনুযায়ী কানাডায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বজায় থাকে।

গত ২১ আগস্ট আইআরসিসি একই সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিন করেছিল। এবার সেই সময়সীমাই পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।

এলএমআইএ অনুমোদনের শর্ত বহাল

অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির আওতায় নতুন ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কিংবা বিদ্যমান পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নিয়োগকর্তার ইতিবাচক অথবা নিরপেক্ষ এলএমআইএ প্রয়োজন। কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ এই মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করে, সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার মতো যোগ্য কানাডীয় নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা পাওয়া যাচ্ছে কি না।

অর্থাৎ নতুন নির্দেশনায় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষার সময়সীমা তুলে দেওয়া হলেও এলএমআইএ পাওয়ার মূল শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি।

নিম্ন মজুরির চাকরিতে এলএমআইএ আবেদনে বিধিনিষেধ

এদিকে কানাডার ৩০টি নগর এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন মজুরির চাকরির জন্য এলএমআইএ আবেদন গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যেসব এলাকায় বেকারত্বের হার ৬ শতাংশ বা তার বেশি, সেখানে প্রযোজ্য চাকরির ক্ষেত্রে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক মধ্যম মজুরির ১২০ শতাংশের কম বেতন দেওয়া হলে নিয়োগকর্তারা সাধারণত এলএমআইএ আবেদন করতে পারবেন না। তবে নির্দিষ্ট কিছু পেশা ও চাকরি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে।

টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়ল, এডমন্টন, ক্যালগারি, অটোয়া-গাতিনো, হ্যালিফ্যাক্স, ফ্রেডেরিকটন ও রেজিনা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নগর এলাকার মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ প্রতি তিন মাস অন্তর প্রভাবিত অঞ্চলগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে।

এ ছাড়া কুইবেক সরকারের অনুরোধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মন্ট্রিয়ল ও লাভাল এলাকায় নিম্ন মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে পৃথক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেটির মেয়াদও বাড়ানো হয়।

নতুন নির্দেশনার ফলে এলএমআইএ সিদ্ধান্তে সরকারি বিলম্বের কারণে সমসাময়িক প্রক্রিয়াকরণের আওতায় থাকা কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট আবেদন ৯০ দিন পর বাতিল হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তবে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং এলএমআইএ অনুমোদনের নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।

সূত্র: কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ এবং সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন নিউজ

❤️
👏
🙂
😞

এলএমআইএ সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলেও ওয়ার্ক পারমিট আবেদন বাতিল করতে পারবে না কানাডা

প্রকাশঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৭

অটোয়া, ১ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): নিয়োগকর্তার শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন বা এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের দেরি হলে কানাডায় বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন আর নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে বাতিল করা হবে না। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।

গত ২৮ অক্টোবর কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করে। এতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির আওতায় জমা দেওয়া ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে নিষ্পত্তি করা যাবে না।

এর আগে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ছিল, এলএমআইএ আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। নতুন নিয়মে এই নির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নতুন নিয়ম

পরিবর্তনটি মূলত একই সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ বা সমসাময়িক প্রক্রিয়াকরণের আওতায় করা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ ব্যবস্থায় কানাডায় কর্মরত কোনো বিদেশি কর্মী তাঁর নিয়োগকর্তার এলএমআইএ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এ সুযোগ পেতে কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হতে দুই সপ্তাহ বা তার কম সময় থাকতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তাকে যথেষ্ট আগেই এলএমআইএ আবেদন জমা দিতে হবে, যাতে কর্মীর বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ (ইএসডিসি) আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে পারবে বলে যুক্তিসংগত প্রত্যাশা থাকে।

বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো কর্মী মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তিনি ‘মেইনটেইনড স্ট্যাটাস’ সুবিধা পান। এর ফলে নতুন আবেদনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের পারমিটে থাকা শর্ত অনুযায়ী কানাডায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বজায় থাকে।

গত ২১ আগস্ট আইআরসিসি একই সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিন করেছিল। এবার সেই সময়সীমাই পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।

এলএমআইএ অনুমোদনের শর্ত বহাল

অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির আওতায় নতুন ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কিংবা বিদ্যমান পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নিয়োগকর্তার ইতিবাচক অথবা নিরপেক্ষ এলএমআইএ প্রয়োজন। কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ এই মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করে, সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার মতো যোগ্য কানাডীয় নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা পাওয়া যাচ্ছে কি না।

অর্থাৎ নতুন নির্দেশনায় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষার সময়সীমা তুলে দেওয়া হলেও এলএমআইএ পাওয়ার মূল শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি।

নিম্ন মজুরির চাকরিতে এলএমআইএ আবেদনে বিধিনিষেধ

এদিকে কানাডার ৩০টি নগর এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন মজুরির চাকরির জন্য এলএমআইএ আবেদন গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যেসব এলাকায় বেকারত্বের হার ৬ শতাংশ বা তার বেশি, সেখানে প্রযোজ্য চাকরির ক্ষেত্রে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক মধ্যম মজুরির ১২০ শতাংশের কম বেতন দেওয়া হলে নিয়োগকর্তারা সাধারণত এলএমআইএ আবেদন করতে পারবেন না। তবে নির্দিষ্ট কিছু পেশা ও চাকরি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে।

টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়ল, এডমন্টন, ক্যালগারি, অটোয়া-গাতিনো, হ্যালিফ্যাক্স, ফ্রেডেরিকটন ও রেজিনা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নগর এলাকার মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ প্রতি তিন মাস অন্তর প্রভাবিত অঞ্চলগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে।

এ ছাড়া কুইবেক সরকারের অনুরোধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মন্ট্রিয়ল ও লাভাল এলাকায় নিম্ন মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে পৃথক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেটির মেয়াদও বাড়ানো হয়।

নতুন নির্দেশনার ফলে এলএমআইএ সিদ্ধান্তে সরকারি বিলম্বের কারণে সমসাময়িক প্রক্রিয়াকরণের আওতায় থাকা কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট আবেদন ৯০ দিন পর বাতিল হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তবে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং এলএমআইএ অনুমোদনের নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।

সূত্র: কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ এবং সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন নিউজ