ইতালিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে গোপন অঙ্গহানির শিকার বাংলাদেশি প্রবাসী মিজানুর, প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়েও জটিলতা
- প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:২২
- / 8
সাল্যের্নো, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ইতালির সাল্যের্নো প্রদেশের আংরি এলাকায় গুরুতর অপরাধের শিকার ৪১ বছর বয়সী বাংলাদেশি প্রবাসী মিজানুর রহমানের সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতালির জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা আইএনপিএস (INPS) তাকে ৬৭ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মাসিক প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় ৭৪ শতাংশ সীমার নিচে থাকায় বর্তমানে তিনি ওই ভাতার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে মিজানুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তার গোপন অঙ্গ কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে মিজানুরের প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ইতালিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার বিষয়টি যুক্ত বলে মামলার তথ্য থেকে জানা গেছে।
ঘটনার পর ৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে নোচেরা ইনফেরিওরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া মিজানুরের পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আইএনপিএসের প্রতিবন্ধিত্ব নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি।
পিসানির ভাষ্য অনুযায়ী, মিজানুর যে ধরনের স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আদালতে আইনি আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইতালীয় নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে মাসিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ৭৪ শতাংশ প্রতিবন্ধিত্বের স্বীকৃতি প্রয়োজন। মিজানুরের ক্ষেত্রে আইএনপিএসের নির্ধারিত ৬৭ শতাংশ হার সেই সীমার চেয়ে ৭ শতাংশ কম।
ফলে আইএনপিএসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবন্ধিত্বের মাত্রা পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। আইনজীবীর দাবি, শারীরিক ক্ষতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং মিজানুরের বর্তমান পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
মিজানুরের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত এখন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

























