চাকরির অফার ছাড়াই জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ, কীভাবে পাবেন ‘অপারচুনিটি কার্ড’
- প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:১৬
- / 6
বার্লিন, ০৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা)- আগে থেকেই কোনো চাকরির অফার বা নিয়োগচুক্তি না থাকলেও দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ রয়েছে। ‘অপারচুনিটি কার্ড’ বা ‘চান্সেনকার্ড’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরা জার্মানিতে গিয়ে নিজেদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজতে পারেন।
জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলা এবং বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সাধারণত আবেদনকারীর আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট জার্মান নিয়োগদাতার চাকরির অফার বা চুক্তিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে শিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান এবং জার্মানিতে থাকার সময় নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়।
অপারচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণত সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত জার্মানিতে অবস্থান করে চাকরি খোঁজার সুযোগ পাওয়া যায়। এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারী নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে নিতে পারেন।
চাকরি খোঁজার সময় আয়ের সুযোগও রয়েছে। কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি কোনো নিয়োগদাতার প্রতিষ্ঠানে সীমিত সময়ের জন্য কাজ করে সেই চাকরিটি নিজের জন্য উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করার সুযোগও রয়েছে।
তবে এই কার্ড পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। আবেদনকারীর কমপক্ষে দুই বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকতে হয়। যোগ্যতার ধরন, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান, বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় পয়েন্ট দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পথের ক্ষেত্রে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।
ভাষাজ্ঞানের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি আবেদনকারীর জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে বি২ পর্যায়ের দক্ষতা থাকতে হয়।
তবে শুধু পয়েন্ট পূরণ করলেই জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় নথি কী হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
জার্মানিতে পৌঁছানোর পর উপযুক্ত চাকরি পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক বসবাসের অনুমতিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই চান্সেনকার্ডকে স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি মূলত জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি আইনি পথ।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানির শ্রমবাজারে প্রবেশের সম্ভাব্য একটি পথ হিসেবে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আবেদন করার আগে যোগ্যতা, আর্থিক শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসার বর্তমান নিয়ম সংশ্লিষ্ট জার্মান সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা জরুরি।



























