রাশিয়ার নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত অন্তত ২২
- প্রকাশঃ ১২:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 3
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের ঘরবাড়িতে আগুন জ্বলছে। সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি। ২ জুন। ছবি : রয়টার্স
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের অন্তত সাতটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সোমবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতে রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮টি ‘জিরকন’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীতে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত নয়টি বহুতল আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি বেসরকারি ক্লিনিক এবং প্রশাসনিক ভবন।
অন্যদিকে, দিনিপ্রো শহরে দুই শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবনের অংশ বিশেষ ধসে পড়ে। হামলার পর কিয়েভে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার জন্য হাজার হাজার বাসিন্দা মেট্রো ও সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিরোধে সক্ষমতা বৃদ্ধি না হলে ইউক্রেনের বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে হামলার দায় স্বীকার করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি কিয়েভের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে পরিচালিত অভিযান। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার কারণে যুদ্ধ একটি ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।
রাশিয়ার দাবি, গত ২২ মে লুহানস্কে একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ওই হামলাকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কোনো ছাত্রাবাসে নয়, ওই এলাকার একটি ড্রোন কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। সোমবার রাতেই রাশিয়ার ক্রাসনোদর অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বেলগোরোদ অঞ্চলে এক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
মস্কোর দাবি, তারা রাতারাতি ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।











